দেশে চলমান বন্যা ও পাহাড়ধসে এ পর্যন্ত ৫৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যায় আক্রান্ত হয়েছেন ছয় লাখের বেশি মানুষ। তবে এই চরম দুর্যোগের মধ্যেও সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের জরুরি কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। সাংবাদিক সম্মেলনে বন্যা পরিস্থিতি, স্বাস্থ্যসেবা এবং বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বন্যা কবলিত জেলাগুলোতে নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে বন্যা উপদ্রুত এলাকাগুলোতে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে। সরকারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ছয় লাখের বেশি মানুষ বর্তমানে এই বন্যা ও পানিবাহিত রোগের দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন।

এদিকে দুর্যোগে এ পর্যন্ত ৫৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে সাংবাদিক সম্মেলনে নিশ্চিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নিহতদের প্রায় সবাই পাহাড়ধসের কারণে মারা গেছেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সরকারের জরুরি ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পুরোদমে সচল রয়েছে।
এদিকে বন্যা কবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী নিজে যাবেন কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্বশরীরে বন্যা এলাকায় যাওয়ার সঙ্গে মাঠপর্যায়ের কাজের কোনো সম্পর্ক নেই। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে সরকারের সব বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে বলেও তিনি জানান।

বন্যা পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারের নানা পরিকল্পনার কথা জানান কৃষিমন্ত্রী । তিনি বলেন, বন্যার পানি সম্পূর্ণ নেমে যাওয়ার পরপরই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের জন্য নতুন করে বীজতলা তৈরি এবং বিনামূল্যে ধানের চারা বিতরণ করা হবে। একই সঙ্গে বন্যা উপদ্রুত এলাকার গবাদিপশুর খাদ্যসঙ্কট দূর করতে সরকারের পক্ষ থেকে গো-খাদ্য ও অন্য সামগ্রী বিতরণ করা হবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আবহাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে বন্যা কবলিত অঞ্চলের পানি পুরোপুরি নেমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বন্যায় দেশজুড়ে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে চাইলে মন্ত্রীরা জানান, মাঠপর্যায়ে পানি সম্পূর্ণ নেমে যাওয়ার পর চূড়ান্ত জরিপের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির একটি পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যাবে এবং সেই অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন কার্যক্রম চালানো হবে।
তিস্তা-সুরমায় স্বস্তি, নেত্রকোনায় শঙ্কা, পাহাড়ে বন্যার দগদগে ক্ষত