সংকটের ছয় বছর

মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বিপদে বাংলাদেশ

মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে এখন বিপদে বাংলাদেশ। রোহিঙ্গাদের মধ্যে বেড়েছে অপরাধ প্রবণতা। ছয় বছরে নিজেদের মধ্যে সংঘাতে মারা গেছে দেড় শতাধিক রোহিঙ্গা। অপহরণ, ধর্ষণ ডাকাতি আর মানবপাচার মিলে মামলার সংখ্যা মোট তিন হাজার ২০০টি। এ পরিস্থিতিতে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিকল্প দেখছে না স্থানীয়রা।

১২ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয়ে আছে, এই সংখ্যাটি পুরোনো হিসেব। নতুন হিসেব হচ্ছে, গত ছয় বছরে রোহিঙ্গা বেড়েছে আরও কয়েক লাখ।

প্রাণ বাঁচাতে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে ৩২টি ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গারা চলছেন বাংলাদেশের মানবতায়। খাওয়া-দাওয়া-চিকিৎসা সবই ফ্রি।

বিনিময় হিসেবে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশকে দিচ্ছেন হত্যা, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, পথে ঘাটে ডাকাতি, মাদকের ব্যবসা, মানবপাচার আর ধর্ষণ। আরসাসহ কয়েকটি সন্ত্রাসী গ্রুপ ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে ক্যাম্প ও ক্যাম্পের বাইরে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তারা শান্তি চান। রোহিঙ্গাদের কারণে নিয়মিত তাদের নানান ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়।

পুলিশও জানে তাদের অপরাধের কথা। কিন্তু বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়েও অপরাধীদের কুল কিনারা খুঁজে পাচ্ছে না তারা।

এপিবিএন জানায়, সাধারণ রোহিঙ্গারা দ্রুত দেশে ফিরতে চায়।

বেশিরভাগ রোহিঙ্গাই চান নিজ দেশে ফিরে যেতে। তবে এজন্য চান মিয়ানমারের নাগরিকত্ব সনদ ও সেখানে নিরাপদে বসবাসের নিশ্চয়তা।

রোহিঙ্গা বলছেন, তারা যত দ্রুত পারেন, দেশে ফিরে যেতে চান।

শরণার্থী বিষয়ক কমিশনও বার বার চেষ্টা করেছে রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরাতে। কিন্তু নানা কারণে থমকে আছে প্রত্যাবাসন।

আরও পড়ুন:

 

শরণার্থী বিষয়ক কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, এটি একটি জটিল প্রক্রিয়া। আমরা এ নিয়ে কাজ করছি। আমরা প্রত্যাশা করছি দ্রুতই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরু হবে।

জেলা পুলিশের সূত্র বলছে, ২০১৭ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত ১১৮টি হত্যাকাণ্ডে মারা গেছে দেড় শতাধিক রোহিঙ্গা। আর অপহরণ, ধর্ষণ ডাকাতি, মানবপাচার মিলে মোট মামলার সংখ্যা ৩ হাজার ২শ’।