এবার ব্রিকসের সদস্যপদ না পাওয়ায় বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক কোনো সমস্যার মুখ পড়তে হবে না বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা।
শনিবার ঢাকা গ্যালারিতে এডিটরস গিল্ড আয়োজিত ‘ব্রিকস ও জি টুয়েন্টিতে বার্তা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় এমন মত দেন বিশিষ্টজনরা। তারা বলেন, ব্রিকস ও জি-টুয়েন্টি জোট থেকে আমন্ত্রণ প্রমাণ করে বড় অর্থনৈতিক শক্তি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। গ্লোবাল টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা গোলটেবিল আলোচনার সঞ্চালনা করেন।
ব্রিকসে এবার বাংলাদেশকে সদস্য করা হবে। এমন প্রত্যাশা ছিল অনেকেরই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে সদস্য করা হয়নি। তবে এমন কয়েকটি দেশকে সদস্য করা হয়েছে যাদের নিয়ে আছে নানা প্রশ্ন।
গোলটেবিল আলোচনায় বলা হয়, ব্রিকসে সদস্যপদ না পাওয়ায় বাংলাদেশের তেমন কোনো ক্ষতি হবে না।
পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী গেলেন। যেভাবে বলা হয়েছিল সেভাবে আউটকাম আসেনি। সৌদি আরব যায় নাই। ওরা কেউ যায় নাই। কিন্তু ওদের সদস্যপদ দেয়া হলো। আমাদের দাওয়াত করে নিয়ে যাওয়া হলো, কিন্তু আমাদের সদস্য পদ দেয়া হলো না। আমাদের জন্য এটা অপমানজনক। যাদের সদস্যপদ দেয়া হয়েছে তাদের চেয়ে আমাদের অবস্থান অনেক ভালো।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ বলেন, ‘একজনও যদি বাধা দেয় তাহলে হবে না। ভারত বলেছে বাংলাদেশকে নিতে পারবা না। হয় নাই। বলে নাই, কিন্তু আমরা জানি। ভারত এটা চায় নাই।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমেদ বলেন, ‘এই ব্যাপারে বাংলাদেতশকে খুব খারাপ বোধ করার দরকার নেই। কেন? ব্রিকসের একটা বড় প্রতিষ্ঠান নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, বাংলাদেশ সেটির প্রতিষ্ঠাতা অংশীদার বা শেয়ার হোল্ডার। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে বিনিয়োগ পেয়েছে।
বিশ্ববিদালয় মঞ্জুরী কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘জি টুয়েন্টিতে প্রধানমন্ত্রী যাবেন। গ্লোবালি আমাদের অর্থনীতিকে স্বীকৃতি দেয়া হচ্ছে। আমাদের জন্য বএটা বড় জিনিস।
নির্বাচন পদ্ধতিসহ অভ্যন্তরীণ নানা বিষয়ে ঐকমত্য হতে না পারার কারণে বাংলাদেশ বিশ্ব পরিমণ্ডলে জায়গা হারাচ্ছে বলেও মনে করেন অনেকে।
সাবেক নির্বাচন কমিশনার ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমি সাধারণভাবে মনে করি, আসরা খুবই দুর্বল জাতি। যত জোরেই বলার চেষ্টা করেন না কেন আমরা খুব স্ট্রং। আমাদের ইন্টারনাল ডায়নাকিমস ফাংশনাল নয়।’
এনটিভির বার্তা প্রধান জহিরুল আলম বলেন, ‘আমরা একটি ভূ-রাজনৈতিক মাইন ফিল্ডে রয়েছি। এখানে আমাদের খুব সতর্কভাবে খেলতে হবে।’
সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আমরা একদিন ব্রিকসের সদস্য হব। নির্ধারিত ক্রাইটেরিয়ার সর্বপ্রথমে আছে বাংলাদেশ।’
তবে বাংলাদেশ যে বড় অর্থনৈতিক শক্তি হতে যাচ্ছে তা ব্রিকস ও জি-২০ এর মতো জোট থেকে আমন্ত্রণ পাবার মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হচ্ছে বলে মনে করেন সবাই।