ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিষয়ে বক্তব্য দিয়ে ডেপুটি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহম্মদ ভূঁইয়া শৃঙ্খলাভঙ্গ করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়ে বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন আয়োজিত এক আলোচনা সভাশেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, তিনি (এমরান) অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন ডিএজি। তিনি যদি সাংবাদিকদের সামনে কথা বলেন, তাহলে তাকে হয় পদত্যাগ করে কথা বলা উচিত, অথবা অ্যাটর্নি জেনারেলের অনুমতি নিয়ে কথা বলা উচিত। কিন্তু তিনি সেটি করেননি। তিনি শৃঙ্খলাভঙ্গ করেছেন।’
তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে আনিসুল হক বলেন, ‘আমি এটা দেখব।’
নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে বিবৃতিতে সই করবেন না বলে সোমবার সাংবাদিকদের জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহম্মদ ভূঁইয়া।
তিনি বলেন, ‘অধ্যাপক ড. ইউনূসের পক্ষে ১৬০ জনের বেশি নোবেল বিজয়ী এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অনেকেই বিবৃতি দিয়েছেন যে-ওনাকে বিচারিক হয়রানি করা হচ্ছে। সেটার বিপরীতে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস থেকে প্রতিবাদ জানিয়ে একটি বিবৃতি দেওয়ার কথা রয়েছে।’
এমরান বলেন, ‘নোটিশ দেয়া হয়েছে, অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে কর্মরত সবাইকে সেই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করার জন্য। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এই বিবৃতিতে আমি স্বাক্ষর করব না।’
কেন সই করবেন না- জানতে চাইলে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলের অ্যাটর্নি জেনারেল ইসরায়েলের যে আইন সংস্কার হচ্ছে; বিচার সম্পর্কিত, তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, এটা আমার নিজস্ব চিন্তা। সে রকমই।’
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, ‘যে বিবৃতি দিয়েছেন ১৬০ জন নোবেল বিজয়ী এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন, আমি ওনাদের বিবৃতির সঙ্গে একমত। অধ্যাপক ড. ইউনূস একজন সম্মানিত ব্যক্তি। তার সম্মানহানি করা হচ্ছে এবং এটা বিচারিক হয়রানি।’
শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মুহাম্মদ ইউনূসের বিচার চলার মধ্যে এই বিচার প্রক্রিয়া স্থগিত চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করে খোলা চিঠি লিখেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৬০ জন বিশিষ্ট নাগরিক।
ওই খোলা চিঠিকে স্বাধীন দেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে দেশের বিশিষ্ট নাগরিকেরা।