ইউনূস নিয়ে বিবৃতি দিতে কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি: অ্যাটর্নি জেনারেল

ড. ইউনূসের মামলা নিয়ে বিদেশিদের বক্তব্যের বিরুদ্ধে বিবৃতি দিতে কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন।

বিবৃতিতে সই না করা আইন কর্মকর্তা এমরান আহম্মদ ভূঁইয়া বলেছেন, কারো প্ররোচনায় নয় নিজের সিদ্ধান্তেই তিনি বিবৃতি সই না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এদিকে আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে এমরান আহম্মেদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইউনূসসহ চার জনের বিরুদ্ধে গত ৬ জুন অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার শ্রম আদালত। এই অভিযোগ বাতিল চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করেন ইউনূস। আদালত তা আমলে না নেয়নি। ইউনূসের বিরুদ্ধে চলমান বিচার প্রক্রিয়া স্থগিত চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করে খোলা চিঠি দেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৬০ জন বিশিষ্ট নাগরিক।

এই খোলা চিঠির সমালোচনা করছে দেশের বিভিন্ন মহল। এর বিরোধিতা করে এরইমধ্যে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, সম্পাদক, শিক্ষকসহ নানা শ্রেণীর মানুষ পাল্টা বিবৃতি দিচ্ছেন।

সুপ্রিম কোর্টে সরকার সমর্থক আইনজীবীরাও একটি বিবৃতি দেয়ার জন্য সমমনা আইনজীবীদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করছিলেন। সোমবার সেই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করতে রাজী হননি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমরান আহেমেদ ভুইয়া।

একাত্তরকে তিনি বলেন, স্বাক্ষর দিতে হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু তার মতে ড.ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা না করে অন্যভাবেও বিষয়টি নিষ্পত্তি করা যেতো।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহম্মেদ ভূঁইয়া বলেন, ‘এটা আসলে আমার একান্ত সিদ্ধান্ত ছিলো। অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের একটি হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ আছে যেখান থেকে গতকাল আমাকে রিমুভ করা হয়েছে। সেখানে ওই নির্দেশনা আসে।’

অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন জানান, বিবৃতিতে স্বাক্ষরের জন্য কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি। বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে কাউকে খুশি করতেই এমরান আহম্মদ ভূঁইয়া এমন বক্তব্য দিয়েছেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘উনি (ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল) বলেছেন, উনাকে সই করার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস থেকে বলা হয়েছে। তাই যদি হয়ে থাকে উনি আমাকে বলতেন। ফোন করতেন। উনি কিন্তু কোনো কথা বলেননি। 

এদিকে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন,এমরান আহম্মদ ভূঁইয়া শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস সূত্রে জানা গেছে, এরইমধ্যে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরানের কক্ষ থেকে বিভিন্ন মামলার নথিপত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে।