দেশে এখনও প্রায় ২৩.২ শতাংশ মানুষ সাক্ষরতার বাইরে রয়েছে এবং এই নিরক্ষরতা দূর করতে বিভিন্ন প্রকল্প নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২৩ উপলক্ষে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নানামুখী কর্মসূচির কারণে আগের তুলনায় সাক্ষরতার হার উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এখনও প্রায় ২৩ দশমিক ২ শতাংশ জনগোষ্ঠী নিরক্ষর। শতভাগ জনগোষ্ঠীকে সাক্ষর করতে না পারলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়।
তিনি জানান, দেশে সাত বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সের নাগরিকদের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৭৬ দশমিক ০৮ শতাংশ। সে হিসেবে এখনও নিরক্ষর ২৩ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ।
এ নিরক্ষরতা দূরীকরণে বিভিন্ন প্রকল্প নেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর আওতায় জিপিই এর আর্থিক এবং ইউনিসেফের কারিগরি সহায়তায় কক্সবাজার জেলায় ১৪-১৮ বছর বয়সী ‘বিদ্যালয় বহির্ভূত কিশোর-কিশোরীদের জন্য দক্ষতা কেন্দ্রিক সাক্ষরতা’ পাইলট প্রকল্পের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ আগস্ট ২০২৩ থেকে জানুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত।
তিনি জানান, এ প্রকল্পের আওতায় ৬ হাজার ৮২৫ জন কিশোর-কিশোরীকে দক্ষতা কেন্দ্রিক সাক্ষরতা প্রদান করা হবে এবং কর্মসংস্থানের সাথে তাদের সংযোগ স্থাপন করা হবে। পাইলট প্রকল্পটি সফল হলে সমগ্র দেশব্যাপী ‘বিদ্যালয় বহির্ভূত কিশোর-কিশোরীদের জন্য দক্ষতা কেন্দ্রিক সাক্ষরতা’ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, এবছর প্রাথমিকে (পঞ্চম শ্রেণিতে) আর বৃত্তি পরীক্ষা হবে না। প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার পরিবর্তে ক্ষুদে অলিম্পিয়াডের মত কিছু কার্যক্রম নেয়া হবে, যেমন গণিত অলিম্পিয়াড বাংলা অলিম্পিয়াডসহ উৎসব। এ সংক্রান্ত একটি কমিটি কাজ করছে এবং এ কমিটি তার রিপোর্ট দিলেই তা চূড়ান্ত হবে বলে জানান তিনি।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব ফরিদ আহাম্মদ জানান, প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা এরই মধ্যে বাতিল হয়েছে। তবে গত বছর প্রাথমিকে বৃত্তি পরীক্ষা নেয়া হয়। চলতি বছরে পঞ্চম শ্রেণিতে সেই বৃত্তি পরীক্ষাও নেয়া হবেনা।
জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা ২০২১ অনুযায়ী কোচিং মুখিতা দূর করতে ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ক্লাসে পাঠদান ও ধারাবাহিক মূল্যায়নকে গুরুত্ব দেয়া হবে, তাই আর বৃত্তি পরীক্ষা হবে না বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, নিবন্ধন এবং একাডেমিক স্বীকৃতি ছাড়া কোন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পাঠদান করাতে পারবে না। নিবন্ধনের আওতায় সব ধরনের বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হাইস্কুলে সংযুক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ও যুক্ত থাকবে। এক বছরের জন্য নিবন্ধন আর তিন বছরের জন্য একাডেমি স্বীকৃতি দেয়া হবে বলে জানান সচিব।
তবে ইংলিশ মিডিয়া স্কুল এর আওতায় আসবেনা। দ্রুতই এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন হবে বলে জানান তিনি।