বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার তিন

বিদেশে লোক পাঠানোর নাম করে প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া একটি চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। ডিবি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর কার্ড জালিয়াতি করে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিল এই চক্রটি। 

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মাধ্যমে কুয়েতে চাকুরি দেয়া হবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে অফিসের ঠিকানা ব্যবহার করে ফোন নম্বরসহ সব ধরনের যোগাযোগের ঠিকানা দিয়ে রাখে প্রতারকরা। অভিযোগ এসেছে জনশক্তি কর্মসংস্থান এবং প্রশিক্ষণ ব্যুরোর নাম ব্যবহার করে অনেকের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে।

তবে প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক জানান জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর কেউ প্রতারণার সাথে জড়িত নন। 

বিএমইটির মহাপরিচালক মো: শহিদুল আলম বলেন, রেজিস্ট্রেশনের সাথে যে ব্যক্তি তথ্য প্রদান করছে, ফর্মে লিখছে, একই ব্যক্তি বায়োমেট্রিক দিচ্ছে। 

ভুক্তভোগীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভিসা প্রতারণার সাথে যুক্ত তিন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। ডিবি জানায়, প্রতারক চক্রটি বিদেশে লোক পাঠানোর নামে আল সাফার ইন্টারন্যাশনাল নামে গুলশানে অফিস খোলে। পরে ফেইসবুকে ভুয়া পেইজে বিজ্ঞাপন দিয়ে কুয়েতে উচ্চ বেতনে চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশিদ বলেন, চক্রটি বলে যে, আপনাদের তিন দিনের একটা ট্রেনিং করতে হবে। তারা ট্রেনিং করে, তারপর তাদের একটা সার্টিফিকেট দেয়া হয়। তখন জাল ভিসা, পাসপোর্ট, ট্রেনিং সার্টিফিকেট নিয়ে এই ব্যক্তিটি যখন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জেলা জনশক্তি কার্যালয়ে যায়। জনশক্তি কার্যালয় যখন কুয়েতের নম্বর দিয়ে এটি চেক করে তখন তারা মনে করে ওই ব্যক্তির ভিসা আছে। তারপর ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিলে এটি অ্যাপ্রুভ হয়।  

প্রতারকরা অর্ধশতাধিক মানুষের সাথে প্রতারণা করে এক কোটি ৩৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত চল্লিশটি পাসপোর্ট, ৯টি জাল ভিসা, ভুয়া বিএমইটি কার্ডের ফটোকপিসহ মোবাইল ও সীম উদ্ধার করেছে ডিবি।