যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মধ্য দিয়ে জাতি দায়মুক্ত হয়েছে: প্রধান বিচারপতি

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মধ্য দিয়ে জাতি দায়মুক্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সদ্য শপথ নেয়া প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। দলমত নির্বিশেষে গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ায় অবদান রাখতে চান বলেও জানান তিনি।

বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় জাদুঘরে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা জানান।

মঙ্গলবার শপথ নেয়ার পর দেশের ২৪তম প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান প্রথম জনসম্মুখে কোন অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন। বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির সংবর্ধনায় বিচার বিভাগকে সচল ও গতিশীল করার প্রতিজ্ঞা কথা জানান তিনি।

প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠন করতে পারবো, আর এর জন্য প্রয়োজন দল ও মতের পার্থক্য ভুলে একসাথে কাজ করা এবং একসাথে চলা। সে কাজ আমরা সকলে মিলে সুনিশ্চিতভাবেই একসাথে করতে পারবো, এ আশাবাদ আমি ব্যক্ত করছি।

আলোচনায় বক্তাদের কাছ থেকে উঠে আসে বাংলা ভাষায় রায় দেয়াসহ নানা প্রস্তাব ও সুপারিশ। জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, আইন ও এ সংক্রান্ত বইগুলো বাংলা অনুবাদের দায়িত্বটা সরকারকেই নিতে হবে। ইংরেজি রায়ের বাংলা অনুবাদ নিয়ে দুরবস্থার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

প্রধান বিচারপতি বলেন, আমাদের সুপ্রিম কোর্টে কি অ্যাপ আছে? আমাদের রেজিস্ট্রির ওনারা জানেন, ইংরেজিতে জাজমেন্ট হলেও সেটি বাংলায় করা যাচ্ছে। তবে দুঃখের বিষয় হলো, এ অ্যাপগুলোর যে ল্যাঙ্গুয়েজ, এ ল্যাঙ্গুয়েজে যে বাংলা তা পড়লে আমরা শ্রুতিমধুর বাংলা ভুলে যাবেন। এ বাংলা যান্ত্রিক বাংলা।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাথে দীর্ঘ সময় যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন প্রধান বিচারপতি।

প্রধান বিচারপতি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে জাতি দায়মুক্ত হয়েছে। অপরাধীদের সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা দিয়ে, আইনি সমস্ত নিয়মনীতি মেনে নির্মোহভাবে এ বিচার করেছি। এই বিচারে তাদের সাজা হয়েছে। পরবর্তীতে সে সাজা বাস্তবায়নও হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো বিচার পেয়েছে। 

সুপ্রিম কোর্টে আটটি বিভাগের জন্য এখন আটজন মনিটরিং জাজ রয়েছেন। তারা দ্রুত মামলা শেষ করার তাগিদ দিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।