খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার আবেদনে সাড়া দেয়নি সরকার

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার আবেদনে সাড়া দেয়নি সরকার। আইনমন্ত্রী বলেছেন, ৪০১ ধারা অনুযায়ী খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার আবেদনে নতুন কোন সিদ্ধান্ত দেয়ার কোনো সুযোগ নেই মন্ত্রণালয়ের। 

রোববার সাংবাদিকদের এসব তথ্য বলেন আইনমন্ত্রী। মন্ত্রী জানান, বিদেশ যেতে হলে খালেদা জিয়াকে আবারও জেলে গিয়ে পরে আদালতে আবেদন করতে হবে।

তিনি বলেন, আইনগতভাবে খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার সুযোগ নেই। দেশের সব কাজই আইনের মাধ্যমে করতে হয়। নির্বাহী আদেশে বিদেশ গেলেও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সেই নির্বাহী আদেশ দিতে হবে। আইনের বাইরে কোনো নির্বাহী আদেশ হতে পারে না।

গত ৯ আগস্ট খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাকে ফের হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। টানা ৫৩ দিন ধরে তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে তিন দফায় তাকে সিসিইউতে নেওয়া হয়েছিল। খালেদা জিয়ার অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর তাকে স্থায়ীভাবে মুক্তি দিয়ে বিদেশে চিকিৎসা দেওয়ার অনুমতি চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে তার পরিবার। পরে সেই আবেদন আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হার্টের সমস্যা, লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, দাঁত ও চোখের সমস্যাসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। গত বছরের জুনে খালেদা জিয়ার এনজিওগ্রাম করা হলে তার হৃদযন্ত্রে তিনটি ব্লক ধরা পড়ে। এর একটিতে রিং পরানো হয়।

রোববার ভয়েস অব আমেরিকায় সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশ যেতে হলে তাকে কারাগারে ফেরত যেতে হবে। এরপর আদালতের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের সাজা হয়। সেদিন থেকে তিনি কারাবন্দি হন। ২০২০ সালের মার্চে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকার খালেদা জিয়ার দণ্ড ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে মুক্তি দেয়। এরপর দফায় দফার তার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে। সর্বশেষ ১২ সেপ্টেম্বর আরও ছয় মাস বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

খালেদার স্থায়ী মুক্তি চেয়ে বিদেশে চিকিৎসার আবেদনে সরকার সাড়া দেওয়াকে ‘ভর্য়কর তামাশা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।