অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভিন্ন হত্যাসহ হয়রানিমূলক মামলাগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তবে রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করা হলেও শিশু নির্যাতন বা ধর্ষণ সংক্রান্ত মামলা কোনোভাবেই প্রত্যাহার করা হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে ১০টি জেলায় মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে বেশ কিছু মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশে বা হয়রানির লক্ষ্যে করা হয়েছে। এসব রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা চিহ্নিত ও প্রত্যাহারের জন্য ইতিমধ্যে গঠিত বিশেষ কমিটি কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষে হয়রানিমূলক মামলাগুলো থেকে নিরপরাধ ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়া এবং মামলা প্রত্যাহারের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তবে গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, সরকার রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিলেও শিশু নির্যাতন বা ধর্ষণ সংক্রান্ত অপরাধের কোনো মামলা প্রত্যাহার করা হবে না।
বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নিজেদের কোনো মামলা প্রত্যাহারের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেননি। তারা নিয়মিত আদালতের মাধ্যমেই আইনি প্রক্রিয়ায় সব মামলা মোকাবিলা করেছেন।
এর আগে সচিবালয়ে ১০টি জেলায় দেওয়ানি ও পারিবারিক সংক্রান্ত সাতটি নির্দিষ্ট বিষয়ে মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রমের শুভ সূচনা করেন আইনমন্ত্রী। বিচারপ্রার্থীদের অর্থ ও সময় সাশ্রয় এবং আদালতের ওপর চাপ কমানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিকে আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে দেশের ২০টি জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলটিং) এই মধ্যস্থতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সেখানে বিগত এক বছরে এ সংক্রান্ত সাত ধরনের বিরোধের ঘটনায় দেওয়ানি মামলা দায়েরের হার প্রায় ৬২ শতাংশ কমে এসেছে। পাইলটিংয়ের সাফল্য বিবেচনায় নিয়েই এবার ১০টি জেলায় বাধ্যতামূলকভাবে এটি চালু করা হলো। সারাদেশে বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা পদ্ধতির মাধ্যমে অন্ততঃপক্ষে ২৫ লাখ মামলা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
যে সাত বিষয়ে মামলা করার আগে মধ্যস্থতা বাধ্যতামূলক:
- পারিবারিক আদালত আইনের আওতাধীন মামলা
- বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন সংক্রান্ত বিরোধ
- সিভিল জজ আদালতের সম্পত্তি বণ্টন বিষয়ক বিরোধ
- সরকারি জমি ক্রয় সম্পর্কিত বিরোধ
- অকৃষি জমি সংক্রান্ত বিরোধ
- পিতা-মাতার ভরণপোষণ সংক্রান্ত বিরোধ
- যৌতুক সংক্রান্ত অভিযোগ
