দুদকে দেড় ঘন্টার জিজ্ঞাসাবাদে ইউনূস

শ্রমিক-কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিলের ২৫ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় নিজের বক্তব্য প্রদান করতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) হাজির হয়ে কথা বলেন গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বৃহস্পতিবার দুদকের উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান সকাল সাড়ে  ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে বের হন ড. ইউনূস। সেখানে মামলার বিষয়ে তার আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন।

এ সময় ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, গ্রামীণ টেলিকমের ১০৬ কর্মচারী শ্রম আদালতে মামলা করেছিলেন। সেখানে বলা হয়েছে, কেন তাদের নীট মুনাফার ৫ শতাংশ এর অংশ দেয়া হবে না। এ নিয়ে ট্রেড ইউনিয়নেও মামলা হয়েছিল। এই মামলা ট্রেড ইউনিয়ন শ্রম আদালতে গোপন করে হাইকোর্টে এসে একটি মামলা করল।

তিনি বলেন, এ মামলাটি মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক। এর কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।

ইউনূসের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,  গ্রামীন টেলিকম সামাজিক ব্যবসার একটি প্রতিষ্ঠান। এর মাধ্যমে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি ও শিল্প-কলকারখানা গড়ে তোলে বেকারত্ব দূর করা হয়। এটাই ড. ইউনূসের থিওরি অনুযায়ী মূল্য উদ্দেশ্য। এতে বলা আছে, কেউ কোনো মুনাফা নেবে না, এই মুনাফা সমাজের উন্নয়নের জন্য ধারাবাহিকভাবে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে এবং বেকারত্ব দূর করা হবে।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর দুদকের উপপরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধান স্বাক্ষরিত চিঠিতে ড. ইউনূসকে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় দুদক কার্যালয়ে হাজির থাকতে বলা হয়।

এদিকে শ্রমিক ঠকানোর মামলায় বিচার চলছে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের। মামলাটি রয়েছে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে। এর মধ্যেই অর্থপাচার ও আত্মসাৎ মামলায় প্রথমবারের মতো জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে মুহাম্মদ ইউনূসকে।

গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক ও কর্মচারীদের ২৫ কোটি ২২ লাখ ৬ হাজার ৭৮০ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ তদন্তের স্বার্থে দুদক কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয় ড. ইউনূসকে।

এর আগে চলতি বছরের মে মাসে দুদকের উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার বাদী হয়ে ঢাকার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করেন।

 

এতে গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিলের ২৫ কোটি ২২ লাখ ৬ হাজার ৭৮০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। মামলায় অন্য আসামিদের মধ্যে আছেন গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আশরাফুল হাসানসহ পাঁচ পরিচালকও। মামলায় প্রাথমিক অনুসন্ধানে অর্থ পাচার ও আত্মসাতের সত্যতা পেয়েছে সংস্থাটি।