শৈল্পিক, দৃষ্টিনন্দন ও একটি বিশ্বমানের বিমানবন্দর পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে ব্যবস্থাপনা যেন সুপরিকল্পিত হয় এবং সেবার মানসিকতা নিয়ে যাতে কর্মীরা কাজ করেন সে বিষয়ে জোর দিচ্ছেন এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা।
তারা বলছেন, তৃতীয় টার্মিনালের বিশ্বমানের এই স্থাপত্য কোন কোন কাজেই আসবে না যদি প্রতিটি কর্মী ও কর্মকর্তারা সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ না করেন। তাই দক্ষ প্রশিক্ষিত কর্মী তৈরি করার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।
হযরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল। পদ্ম ফুলের আদলে গড়া দৃষ্টি নন্দন ও শৈল্পিক এই স্থাপনা মুগ্ধ করবে যে কাউকে।
টার্মিনালের ছাদে যে কাঠামো দাড় করানো হয়েছে; এর প্রত্যেকটির রঙ আলাদা। একটির সাথে অন্যটির রঙের কোন মিল নেই। পুরো ছাদ জুড়ে যেনো শিল্পীর ক্যানভাসে ফুটে উঠেছে রঙের এক ঝর্ণা ধারা।
২১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে শৈল্পিক এই স্থাপনা তৈরির উদ্দেশ্য একটাই, তা হলো যাত্রীদের নিরবচ্ছিন্ন আন্তর্জাতিক মানের সেবা দেয়া।
দেশের বেসরকারি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তারা বলছেন, তারা চান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যেন সব কিছু তাদের সাথে সমন্বয় করে নেন। কারণ বিগত দিনে সমন্বয়হীনতার কারণে অনেক সেবার ক্ষেত্রেই এয়ারলাইন্স ও যাত্রীদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে।
নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, উন্নত প্রযুক্তি আনলেই হবে না, সে প্রযুক্তি ঠিকভাবে পরিচালনার জন্য আমাদের দক্ষ জনগোষ্ঠী লাগবে। সে জায়গায় আমাদের ভয়াবহ দুর্বলতা আছে। এখন থেকেই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া উচিত।
ইউএস বাংলার মহাব্যবস্থাপক মো. কামরুল ইসলাম বলেন, সবার সমন্বয় জরুরি।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামনের দিনগুলোতে লাগেজ হ্যান্ডেলিং থেকে শুরু করে যাত্রী সেবার খুঁটিনাটি সব কিছুতেই কঠোর নজরদারি বজায় রাখতে হবে। নয়তো সুরম্য এই অট্টালিকার মূল সুবিধাটাই মিলবে না।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদ উল আলমের মতে, স্থাপনা সেবা দিতে পারবে না। যেসব প্রতিষ্ঠান বা কর্মকর্তা, কর্মচারীরা ওখানে সেবা দিবে তাদের আন্তরিক হতে হবে।
বিশ্বমানের যাত্রী সেবার কথা চিন্তা করেই তৃতীয় টার্মিনালের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে একটি জাপানি প্রতিষ্ঠানকে।
সিভিল এভিয়েশনে চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, জাপানি ওই প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনা মতোই আন্তর্জাতিক মানের যাত্রী সেবা দিতে তারা সব রকম কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবেন।