বিএনপি-জামায়াত ও সমমনা অন্য বিরোধী দলগুলোর ডাকা অবরোধ চলার সময়ে গত ৩৭ ঘণ্টায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্নস্থানে ১৫টি আগুনের সংবাদ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৯টি বাস, চারটি কাভার্ড ভ্যান ও দুইটি ট্রাক পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স বৃহস্পতিবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ঢাকা মহানগরীতে (হাজারীবাগ, তাঁতিবাজার, কাকলি, মিরপুর, ধানমন্ডি, বারিধারা, মাতুয়াইল) ৭টি, ঢাকা বিভাগে (গাজীপুর) তিনটি, চট্টগ্রাম বিভাগে (খাগড়াছড়ি) একটি, রাজশাহী বিভাগে (বগুড়া, শিবগঞ্জ) একটি, বরিশাল বিভাগে (গৌরনদী, বরগুনা) দুইটি ও চট্টগ্রাম বিভাগে (নোয়াখালী) একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সারাদেশে প্রতি তিন ঘণ্টায় একটি করে পরিবহন এবং প্রতি চার ঘণ্টায় একটি করে বাসে আগুনের ঘটনা ঘটেছে।
ঢাকা সিটিতে প্রায় ৬ ঘণ্টায় একটি করে বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করা দেখা গেছে, দিনের থেকে রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বেশি ঘটেছে।
প্রথম দফায় গত ৩১ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ৭২ ঘণ্টার অবরোধ পালন করে বিএনপি। এরপর ৫ ও ৬ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় অবরোধ পালন করে দলটি। এখন চলছে তৃতীয় দফার অবরোধ কর্মসূচি।
২৮ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ১১০টি আগুনের সংবাদ পেয়েছে ফায়ার সার্ভিস। এর মধ্যে ২৮ অক্টোবর ২৯টি, ২৯ অক্টোবর ১৯টি, ৩০ অক্টোবর-১টি, ৩১ অক্টোবর ১১টি, ১ নভেম্বর ১৪টি, ২ নভেম্বর ৭টি, ৪ নভেম্বর ছয়টি, ৫ নভেম্বর ১৩টি এবং ৬ নভেম্বর ১০টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে আবারও রোববার ভোর ৬টা থেকে মঙ্গলবার ভোর ৬টা পর্যন্ত টানা ৪৮ ঘণ্টার অবরোধের ডাক দিয়েছে বিএনপিসহ অন্য দলগুলো।
সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি গত ২৮ অক্টোবর নয়াপল্টনে মহাসমাবেশ ডাকে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের মধ্যে সেই সমাবেশ থেকে ২৯ অক্টোবর হরতাল ডাকে দলটি।
একদিন বিরতি দিয়ে ৩১ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর সারা দেশে অবরোধ করে তারা। আলাদা কর্মসূচি দিয়ে সঙ্গে যোগ দেয় যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াত। এছাড়া বিএনপির সঙ্গে আন্দোলনে থাকা কয়েকটি দলও একই কর্মসূচি দেয়। সেই অবরোধ শেষে রোব ও সোমবার নতুন করে ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ ডাকা হয়।