বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করা ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’ মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরে খোলা হয়েছে মনিটরিং সেল।
শুক্রবার সকালে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়-ক্ষতি কমাতে প্রচারণা চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস। সতর্ক অবস্থায় রয়েছে ১৩ জেলার ৫১টি ফায়ার স্টেশন। যেসব এলাকায় ঘূর্ণিঝড় আঘাতের আশঙ্কা আছে সেসব এলাকায় ফায়ার স্টেশনগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে মনিটরিং সেল। তাদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়টি বরগুনা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, ভোলা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট ও চট্টগ্রামে আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে।
দুপুর থেকে ঘূর্ণিঝড়ের অগ্রপ্রান্ত উপকূল অতিক্রম শুরু করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরে ৭ নম্বর এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরে ৬ নম্বর সতর্কতা সংকেত জারি করা হয়েছে।
এরইমধ্যে পরিস্থিতি বিবেচনায় সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ বা বিআইডব্লিউটিএ।
তাছাড়া ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’ মোকাবিলায় জেলায় জেলায় সভা করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি। বেশিরভাগ জেলায় এরইমধ্যে সাইক্লোন শেল্টার, মুজিব কেল্লা, সিপিপি ভলান্টিয়ার প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া খাদ্য, নগদ অর্থসহ অন্যান্য সহায়তার প্রস্তুতি নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
জেলাগুলোতে স্যালাইন, খাওয়ার পানি বিশুদ্ধিকরণ ট্যাবলেট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় মুহূর্তে সহায়তার জন্য তৈরি করা হয়েছে মেডিকেল টিমও।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান জানিয়েছেন, আশ্রয় কেন্দ্রে পর্যাপ্ত খাবার ও নিরাপদ খাবার পানির ব্যবস্থা রাখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, দ্রুততার সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়াসহ আশ্রয় কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, হামুন ঘূর্ণিঝড় উপলক্ষ্যে প্রতিটি জেলায় নগদ টাকা, শুকনা খাবার, শিশু খাদ্য ও গোখাদ্যের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিলো। আশা করছি, সেই অর্থ ব্যবহার করেই হবে। এরপরেও যদি আরও কিছু প্রয়োজন হয়- আমাদের জানালে ব্যবস্থা করে দেব।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর সেই ভয়াল ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশে আঘাত হেনেছিলো। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সিডর নামে আরও একটি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। যে কারণে এ মাসটি বেদনাদায়ক। সিডরে তিন হাজার ৬০০ লোক মারা গেছে। নতুন ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষেত্রে আমরা সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করছি।