উপকূলে আঘাত হেনেছে মিধিলি, ৫ ফুট জলোচ্ছ্বাসের পূর্বাভাস

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড় মিধিলি বাংলাদেশের উপকূলে পৌঁছে গেছে। পটুয়াখালীর খেপুপাড়ার কাছ দিয়ে মোংলা-পায়রা সমুদ্র উপকূল অতিক্রম করতে শুরু করেছে ঘূর্ণিঝড়টি।

শুক্রবার সন্ধ্যা নাগাদ মিধিলি বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করবে বলে আবহাওয়া অফিস থেকে জানানো হয়েছে।

উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকার মানুষ ও গবাদি পশু ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে। সমুদ্র বন্দর থেকে জাহাজগুলোকে নিরাপদস্থানে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

আট জেলার উপকূলীয় অঞ্চল এবং দ্বীপ ও চরাঞ্চলগুলোতে তিন থেকে পাঁচ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাস হতে পারে বলে এবং বেশ কয়েকটি জেলায় ভারী থেকে অতি বৃষ্টি হওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।  

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রভাগ দুপুরে খেপুপাড়ার কাছ দিয়ে মোংলা-পায়রা উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে এবং আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে সন্ধ্যা নাগাদ উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়ের লাইভ আপডেট ওয়েবসাইট উইন্ডি ডটকমের ছবি

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের মধ্যে বাতাসের একটানা ঘূর্ণন গতি রয়েছে ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা ও ঝড়ো হাওয়া আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের আশপাশ এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।

ঘুর্ণিঝড়ের প্রভাবে পায়রা ও মোংলা সমুদ্র বন্দরকে সাত নম্বর এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। 
পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সারাদেশে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখতেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ঘুর্ণিঝড়ের প্রভাবে দেশের বিভিন্নস্থানে বৃষ্টিপাত চলছে। ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

প্রবল বর্ষণে চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।  

এদিকে আট জেলা জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিল হতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। এই জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে- লক্ষ্মীপুর, ফেনী, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা।

এসব জেলার অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে তিন থেকে পাঁচ ফুটের বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।