পাওনা পরিশোধের আগে বাড়বে না ইন্টারনেটের গতি

দেশের ইন্টারনেট গতি স্বাভাবিক হতে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ।

আইআইজি এসোসিয়েশনের বক্তব্য, ছুটির দিনে ব্যান্ডউইথ স্লো করে দেয়ায় তারা চাইলেও টাকা পরিশোধ করতে পারছে না।

এদিকে, সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি বলছে, পুরো টাকা পরিশোধ না করলে ইন্টারনেটের গতি বাড়ানো হবে না। ৩৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৯টি প্রতিষ্ঠানই সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানির মূল্য পরিশোধ করছে না। বকেয়া ছাড়িয়েছে ৩৮৪ কোটি টাকা। এরমধ্যে ৯টি প্রতিষ্ঠানেরই বকেয়া ১৭৯ কোটি টাকা।

বৃহষ্পতিবার রাত ১২টায় ৫০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ডাউন করে দেয় সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি। ফলে দেশজুড়ে গতি কমে যায় ইন্টারনেটের, বিপাকে পড়েন শিক্ষার্থী, ফ্রিল্যান্সারসহ প্রযুক্তি নির্ভর পেশাজীবীরা।

মূল্য পরিশোধ না করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আছে ফাইবার এট হোম, আমরা টেকনোলজিসের মত বড় প্রতিষ্ঠানগুলো।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার পর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি) ৫০০ জিবিপিএস (গিগাবিট পার সেকেন্ড) ব্যান্ডউইথ সীমিত করে দেয়। কোম্পানিটি জানিয়েছে, তারা ১৯টি আইআইজি প্রতিষ্ঠানের ব্যান্ডউইথ সীমিত করে রেখেছে। বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৩৪টি আইআইজি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

বিএসসিপিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা কামাল আহম্মদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া পরিশোধ না করায় ওপর মহলের নির্দেশে ব্যান্ডউইথ বন্ধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, কোম্পানিগুলোর কাছে অনেকবার বকেয়া চাওয়া হয়েছে। তারা দেয়নি। গ্রাহকদের কাছ থেকে তারা টাকা আদায় করে। সরকারকে রাজস্ব কেন দেবে না?

মির্জা কামাল বলেন, বৃহস্পতিবার ব্যান্ডউইথ বন্ধ করে সঙ্গে সঙ্গেই কোম্পানিগুলোকে জানানো হয়েছে।

এদিকে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ও মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর সূত্রে জানা গেছে, হঠাৎ করে ব্যান্ডউইথ সীমিত হয়ে যাওয়ায় তারা বিপাকে পড়েছে। গ্রাহকেরা ধীরগতির ইন্টারনেট সমস্যায় ভুগছেন।

সূত্র জানায়, আইআইজিদের কাছ থেকে পাওনা আদায়ে গত ১৩ জুলাই বিএসসিপিএলসি টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় বরাবর চিঠি দেয়। মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ৯ আগস্ট বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) চিঠি দেয়। সেখানে বলা হয়, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত আইপিলসি ও আইপি ট্রানজিট সেবা বাবদ বর্তমানে বিভিন্ন অপারেটরের কাছে সাবমেরিন কেবল কোম্পানির বকেয়ার পরিমাণ ৩৮৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৯টি অপারেটরের কাছেই তারা পায় ১৮১ কোটি টাকা।

বিটিআরসি ১৪ সেপ্টেম্বর ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশকে (আইআইজিএবি) এসব বকেয়া পরিশোধের জন্য চিঠি দেয়।

আইআইজিএবির মহাসচিব আহমেদ জুনায়েদ বলেন, যে ৯টি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে, তার বাইরে আরও অনেকের ব্যান্ডউইথ সীমিত করা হয়েছে। তাদের আগাম নোটিশ দিতে পারতো বা সীমিত করার আগে অন্তত জানাতে পারতো।

গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেট সেবা দিয়ে থাকে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) প্রতিষ্ঠানগুলো। আইএসপিএবির সভাপতি ইমদাদুল হক বলেন, ইতিমধ্যে গ্রাহকেরা ইন্টারনেটে ধীরগতির অভিযোগ জানিয়ে ফোন করছেন। সন্ধ্যার পর থেকে ইন্টারনেটের চাহিদা বাড়বে। তখন গ্রাহকদের ভোগান্তি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।