দালালদের হাত থেকে প্রবাসীদের রক্ষার জন্য মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাসপোর্ট ও ভিসা আউটসোর্সিং করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এ লক্ষ্যে ঠিকাদারি দেয়া হয় একটি কোম্পানিকে। কিন্তু ‘গোড়ায় গলদ’ থাকায় কয়েকমাসের চেষ্টাতেও আউটসোর্সিংয়ের কাজ শুরুই করা যায়নি।
ফলে আউসোর্সিংয়ের মাধ্যমে পাসপোর্ট ও ভিসা সংক্রান্ত কনস্যুলার সার্ভিসের দায়িত্ব ঠিকাদারকে দেয়ার শুরুতেই বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ সময় অতিবাহিত হয়ে গেলেও তা চালু করা সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তিনটি কারণে এই বিপর্যয়। তা হলো- ঠিকাদারি কোম্পানি বাছাইয়ে স্বচ্ছতার অভাব, নিযুক্ত কোম্পানির সংশ্লিষ্ট কাজে অভিজ্ঞতা না থাকা এবং সংশ্লিষ্ট কাছে অদক্ষতা।
এ বিষয়ে বেশ কিছু কাগজপত্র ঘেঁটে ও কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, পাসপোর্ট ও ভিসা আউটসোর্সিংয়ের জন্য সরকার কোনো দরপত্র আহ্বান করেনি। সরকারের অভ্যন্তরের ক্ষমতাধর একটি মহলের পছন্দের মাধ্যমে এক্সপেট সার্ভিসেস লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি এই ঠিকাদারি দেয়া হয়। কিন্তু এর আগে কনস্যুলার সংক্রান্ত কাজের কোনো অভিজ্ঞতা এই এক্সপেট সার্ভিসেসের।
সরকার অনেক আগে থেকেই কাজ শুরুর তাগাদা দিয়ে আসছিলো এক্সপেট সার্ভিসকে। কিন্তু সাড়া না পেয়ে পহেলা ডিসেম্বর সর্বশেষ সময় বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করতে ব্যর্থ হয়েছে তারা।
এসব বিষয়ে এক্সপেট সার্ভিসেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিয়াস উদ্দিন আহমেদের মোবাইল ফোনে কয়েকবার কল করেও পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপে এসএমএস পাঠানো হয়েছে, সেই এসএমএস তিনি দেখলেও জবাব দেননি।
জাতীয় নিরাপত্তার উন্নয়ন, পরিচয় নিয়ে প্রতারণা কমানো এবং সর্বোপরি প্রবাসীদের দ্রুত সেবা দেয়া ও হয়রানি কমাতে বাংলাদেশ সরকার ভিসা ও পাসপোর্ট আউটসোর্সিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়।
যদিও অনভিজ্ঞ একটি কোম্পানিকে নাগরিকদের স্পর্শকাতর তথ্য দেয়াটা কতটুকু নিরাপদ ও যুক্তিসম্মত তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সূত্র জানায়, এক্সপেট সার্ভিসেস লিমিটেড নামের ওই কোম্পানি পাসপোর্ট ও ভিসা আউটসোর্সিং কাজে আবেদন করে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার ও এমআরপি বিভাগ থেকে একটি চিঠি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায়।
মালয়েশিয়াতে কাজ শুরু করতে না পারলেও ঠিকাদারি কোম্পানিটি আরো কয়েকটি মিশনে আউটসোর্সিং কাজ শুরুরও আবেদন করেছে।
কোম্পানিটি বাংলাদেশের কাতার, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, ভারত (নয়াদিল্লি, আগরতলা, গোয়াহাটি এবং মুম্বাই) মিশনে আউটসোর্সিং কাজ পেতে আগ্রহী বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে
একটি সূত্র জানিয়েছে, তারা এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের দ্রুত অনুমোদন কামনা করেছে। কাজ পেতে বিভিন্নভাবে তদবিরও শুরু করেছে।
কোম্পানির প্রস্তাব এবং পোর্টফোলিও মিলিয়ে দেখা যায়, এক্সপেট সার্ভিসেস লিমিটেডের গার্মেন্টস, এগ্রো, ডেইরি ও হসপিটালিটি খাতে কাজ করে। পাসপোর্ট ও ভিসা আউটসোর্সিং কাজে নিজেদের অভিজ্ঞতা না থাকায় কোম্পানিটি বিএলএস ইন্টারন্যাশনাল নামের অন্য একটি কোম্পানির সঙ্গে জোট বেধেছে।
আউটসোর্সিংয়ে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের যেসব সেবা দেওয়ার কথা সেসবের মধ্যে রয়েছে- পাসপোর্ট ও ভিসা আউটসোর্সিং সার্ভিস, স্পর্শকাতর ও জটিল নয় এমন কনস্যুলার সার্ভিস, যাচাই ও সত্যায়ন সেবা, নাগরিকদের ফ্রন্ট এবং অ্যান্ড সার্ভিস, কল সেন্টার সার্ভিস।
এছাড়া হেল্পলাইন, বাংলাভাষী স্টাফদের সহায়তা, ভিআইপি ও সিআইপিদের সেবাদানে কর্মী নিয়োগ, পর্যটন ও বাণিজ্য কর্নার স্থাপন, ভবিষ্যতে জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার নিবন্ধনে সহায়তা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্য যে কোনো সহায়তা প্রদান।