নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোটের দিন সকালে কেন্দ্রগুলোতে ব্যালট পাঠাতে হবে, তবে কোনো এলাকার পরিস্থিতি বিবেচনায় সকালের আগেই ব্যালট পেপার পাঠাতে হলে ইসির অনুমতি নিতে হবে।
সোমবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে জাপানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।
এদিনই সকালে ব্যালট পাঠাতে পরিপত্র জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথমবার ভোটের দিন সকালে কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে ব্যালট পেপার। এতোদিন আগের রাতে পাঠানো হতো।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রগুলোতে সকালবেলা ব্যালট পেপার পাঠাতে হবে। তবে দুর্গম, হাওড়, পার্বত্য, চর ও দ্বীপাঞ্চলে কখন ভোটের ব্যালট যাবে সেই সিদ্ধান্ত স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে নেবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
সকালে ব্যালট পাঠানোর বিষয়ে কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, কিছু কিছু এলাকায় হয়তো সম্ভব হবে না। খুব দূরবর্তী দ্বীপ, হাওড়, বাঁওড় বা জলপথে যেখানে যেতে হয় ইত্যাদি।
তবে যে সব জায়গায় সকালের আগে পাঠাতে হবে সে বিষয়ে অনুমোদন নিতে হবে বলে জানান তিনি।
সিইসি বলেন, ‘রিটার্নিং অফিসাররা সুস্পষ্ট প্রস্তাব পাঠাবেন এবং অনুমোদন গ্রহণ করবেন। যেগুলো সম্ভব হবে না, রিমোট জায়গাগুলো- সেগুলো দেখে, বিচার-বিবেচনা করে, তাদের প্রস্তাব যদি সঙ্গত হয়, তাহলে আমরা অনুমোদন করে দিবো।
‘মোটা দাগে যে জিনিসটা হচ্ছে, যতদূর সম্ভব ব্যালট পেপারগুলো ভোটের দিন সকালেই যাবে।’
তবে ভোটের ব্যালট বক্সগুলো দুচার দিন আগেই যাবে বলে জানান তিনি। সিইসি বলেন, ‘ব্যালট বাক্সগুলো স্বচ্ছ থাকবে। আমরা আগেই বলেছি, সেগুলো দেখে নিতে হবে। পোলিং এজেন্ট থাকতেই হবে।
‘পোলিং এজেন্টদের দেখ নিয়ে সাক্ষর করতে হবে যে, ব্যালট বক্সগুলো খালি ছিলো। এটার ফলে, স্বচ্ছতা নিয়ে যদি সংশয় থাকে, সেই সংশয় কিছুটা হৃাসপ্রাপ্ত হবে।’
এক সাংবাদিক কাজী হাবিবুল আউয়ালকে প্রশ্ন করেন- ইতিহাসে এই প্রথম বার ব্যালট পেপার সকালে যাচ্ছে, এটা কেন?
জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘এটা অনেকের দাবি ছিলো। এটাতে স্বচ্ছতা বাড়াবে। সকালে যাওয়াই ভালো। সেই দিকটাই বিবেচনা করা হয়েছে।
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদের তফসিল অনুযায়ী, ভোট হবে ৭ জানুয়ারি। মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার শেষে সোমবার প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আর এ দিন থেকেই প্রার্থীরা শুরু করেছেন প্রচার-প্রচারণা।
এবারের ভোটে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ, সংসদে বিরোধীদল জাতীয় পার্টিসহ ২৭ দল অংশ নিয়েছে।
আর ভোটে নিচ্ছেন ১৮৯৬ জন প্রার্থী। নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হবে ৫ জানুয়ারি সকালে। দেশে মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা প্রায় ৪২ হাজার এবং বুথের সংখ্যা দুই লাখ ৬২ হাজার। দেশের মোট ভোটার ১১ কোটি ৯১ লাখ।
অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে জোর দিয়েছি
এদিকে আসন্ন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে বলে আবারো নিশ্চিত করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল।
তিনি বলেন, ‘সব দেশ আমাদের নির্বাচন সম্পর্কে খোঁজ খবর নিচ্ছে। আমাদের ডোনার কান্ট্রিজগুলো নির্বাচন দেখতে চাচ্ছে। সেটাকে চাপ বলেন বা এটা সেন্সেটাইজেশন বলেন, ওরা যে দৌড়ঝাঁপগুলো করছে আমরা দেখেছি এবং যার ফলে সরকারও বারবার বলেছে যে, নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু হবে।
‘আমাদের তরফ থেকেও আমরা বলেছি যে, নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু হবে।’
বিএনপি নির্বাচনে না আসা প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, ‘এটা ঠিক যে, নির্বাচনে একটি গুরুত্বপূর্ণ দল তারা পার্টিসিপেট করছে না। পার্টিসিপেট করলে অনেক ভালো হতো। আপনারা জানেন, আমরা প্রথম থেকেই তাদেরকে আহ্বান জানিয়েছিলাম যে, আপনারা অংশগ্রহণ করুন। তারা সাড়া দেননি।’
কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, আন্তর্জাতিকভাবেও নির্বাচনটা সুন্দর হোক, সুষ্ঠু হোক সকলের কাছে এবং বহির্বিশ্বেও নির্বাচনটা একটা ভালো গ্রহণযোগ্যতা পাক; সেই প্রত্যাশা সকলের মতো আমাদেরও আছে। আমাদের তরফ থেকে নির্বাচনটাকে ফ্রি, ফেয়ার এবং পিসফুল করা- এই তিনটা জিনিসের উপর আমরা খুব জোর দিয়েছি।
নির্বাচন প্রতিহতের হুমকি বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, প্রতিহত যদি উনারা করতে চান, সেটা উনাদের ব্যাপার। সেটার ব্যাপারে আমরা কোনো বক্তব্য দেব না। আমরা চাইব ইলেকশনটা পিসফুলি হোক।
জাপানের রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনোরির সঙ্গে বৈঠক নিয়েও কথা বলেন সিইসি। তিনি বলেন, তারা আমাদের নির্বাচনটাকে খুব গুরুত্ব দিচ্ছেন। সেজন্য তারা অবজার্ভ করতে চাচ্ছেন।
এদিকে জাপানের রাষ্ট্রদূত জানান, তাদের দেশ থেকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের বিষয়ে বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। জাপানের ১৬জনের একটি দল থাকবে। এদের মধ্যে ৩জন পর্যবেক্ষক থাকবেন।