অটোরিকশায় সংসদে সর্বকনিষ্ঠ এমপি

বাংলাদেশের প্রথম সংসদে রিকশা নিয়ে ঢুকতে চেয়েছিলেন ওই সময়ের সর্বকনিষ্ঠ সংসদ সদস্য মো. আবদুল হামিদ। তাকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। সেই আবদুল হামিদ পরে হন জাতীয় সংসদের স্পিকার। তারপর দুই দফায় রাষ্ট্রপতি।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সদস্যরা যেখানে মঙ্গলবার অধিবেশনে যোগ দিতে চকচকে গাড়িতে করে সংসদে এসেছেন, তখন একজনকে দেখা গেলো সিএনজি অটোরিকশায় করে সংসদ ভবনে আসতে। ঘটনাক্রমে তিনিও এবার সর্বকনিষ্ঠ সংসদ সদস্য, যশোর-৬ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত মো. আজিজুল ইসলাম।

কেশবপুর থেকে নির্বাচনে দাঁড়িয়ে এলাকার ক্ষমতাশালী নৌকার প্রার্থী শাহীন চাকলাদারকে হারিয়ে আলোচনায় আসেন আজিজুল।

একসময় সময় উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। পরে আজিজুল জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। তখন থেকেই তিনি গ্রামেগঞ্জে জনসংযোগ করেন। তিনি তরুণদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।

প্রথম সংসদে রিকশা নিয়ে ঢোকার কথা ২০১৮ সালে বঙ্গভবনে এক অনুষ্ঠানে আবদুল হামিদ তার রিকশা নিয়ে সংসদে ঢোকার স্মৃতিচারণ করেছিলেন।

ওই অনুষ্ঠানে ১৯৭০ সালের গণপরিষদ নির্বাচন থেকে রাষ্টপতি নির্বাচিত হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন আবদুল হামিদ।

স্বাধীনতার পর প্রথম সংসদে রিকশা নিয়ে সংসদে ঢোকার কথা বলেন তিনি।

আবদুল হামিদ বলেন, এমপিরা গাড়ি নিয়ে সংসদে যায়। আমি প্রথমবার রিকশা নিয়ে গিয়েছিলাম। আটকাইয়া দিছিলো। আমি বলছিলাম, এমপি সাহেব যদি গাড়ির ড্রাইভার নিয়ে যেতে পারে তবে আমার রিকশার ড্রাইভার নিয়ে কেন যেতে পারবো না।

আবদুল হামিদকে যেতে না দেওয়ায় সেই সময় সংসদের বিশেষ অধিকার কমিটিতে অধিকার ক্ষুণ্ণের নোটিশ দেন। সেই নোটিশ তুলে নিতে তৎকালীন প্রধান হুইপ শাহ মোয়াজ্জেম অনুরোধ করলেও নেই নোটিশ প্রত্যাহার করেননি তিনি।

পরে হুইপ রাফিয়া আক্তার তাকে জানান বঙ্গবন্ধু তাকে ডেকেছেন।

আবদুল হামিদ জানিয়েছিলেন, পরে তিনি ৫ হাজার টাকা নিলামে সেনাবাহিনীর পরিত্যাক্ত একটি গাড়ি কেনেন।

মঙ্গলবার দুপুরে আজিজুল যখন সংসদের টানেলে একটি সিএনজি অটোরিকশা ঢোকে তখন নিরাপত্তাকর্মীরা বুঝতে পারেননি ভেতরে কে রয়েছেন। নিরাপত্তাকর্মীদের একজন অটোরিকশাকে সরে যেতেও বলেন।

সিএনজি থেকে নামতেই গণমাধ্যমকর্মীরা তার কাছে যায়।

১৯৯৫ সালে জন্ম নেওয়া এই সংসদ সদস্য বলেন, তার গাড়ি নেই। মানুষের ভালবাসার ঋণ কীভাবে শোধ করবেন সেটিকেই বড় চিন্তা বলছেন এই সংসদ সদস্য।

তিনি বলেন, আমি ধন্যবাদ জানাই জননেত্রী শেখ হাসিনাকে। তিনি সুযোগ দিয়েছেন বলেই আমার মতো একজন সাধারণ মানুষ সংসদে আসতে পেরেছি।

আজিজুল বলেন, মানুষের ভালোবাসা আর এত চোখের পানি আমার গায়ে লেগে আছে। সেই মানুষের চোখের পানি ও ভালোবাসা নিয়ে আমি সংসদে এসেছি। আমার দায়িত্ব তাদের জন্য কথা বলতে হবে।