মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহীদের সংঘাতের জেরে বাংলাদেশ সীমান্তে স্থিতিশীলতা ফেরাতে ভারতের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।
নয়াদিল্লি সফরের প্রথম দিনে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক শেষে একথা বলেন তিনি। একইসঙ্গে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেছেন হাছান মাহমুদ।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। আর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বেও ভারতের ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে।
‘এই উন্নয়ন অগ্রগতির ধারা বজায় রাখতে আঞ্চলিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি রক্ষার বিকল্প নেই। সে লক্ষ্যেই আমরা আলোচনা করেছি,’ বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনদিনের ভারত সফরের প্রথমদিন বুধবার সকালে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সরদার প্যাটেল ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান তিনি।
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের পূর্ণ অধিকারসহ তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে পুনর্বাসন এবং মিয়ানমারে চলমান পরিস্থিতি নিয়েও একযোগে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের আমন্ত্রণে তিন দিনের দ্বিপাক্ষিক সফরে নয়াদিল্লি পৌঁছেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর এটিই তার প্রথম ভারত সফর।
মঙ্গলবার রাতে তিনি দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছলে তাকে স্বাগত জানান ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. মুস্তাফিজুর রহমান এবং উজবেকিস্তানে ভারতের রাষ্ট্রদূত স্মিতা পন্থ।
এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় হায়দ্রাবাদ হাউজে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।
এদিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন ছাড়াও মিয়ানমারের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। মতবিনিময় হতে পারে অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক এবং বহুপাক্ষিক বিষয়েও।
হাছান মাহমুদ বলেন, এবারের সফরে কোনো চুক্তি বা এমওইউ হবে না। তবে অগ্রগতি হতে পারে অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনসহ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকেন্দ্রিক সম্পর্কগুলোর।
বৃহস্পতিবার সকালে বিবেকানন্দ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের গত দশক’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তৃতা দেবেন হাছান মাহমুদ। একইদিনে আরো বেশকিছু বৈঠকের কথা রয়েছে। শুক্রবার কলকাতা হয়ে ঢাকা ফিরবেন তিনি।