পুতিনকে পেলেও যুদ্ধ বন্ধ করতে বলবো: হাসিনা

ইউক্রেনের রাশিয়ার বিশেষ সামরিক অভিযানের দুই বছর পূর্ণ হতে চলেছে। এই সময়ে এর প্রভাব শুধু এই দুই দেশেই নয়, ছড়িয়েছে গোটা বিশ্বে। যুদ্ধকে ইস্যু করে পশ্চিমারা নিষেধাজ্ঞা খেলায় মেতে উঠায় বিশ্বের বাণিজ্য ব্যবস্থায় ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট মহামারির ধকল কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই এই যুদ্ধ বহু দেশের জন্য অভিশাপ বয়ে আনে। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের ভেতরে ও বাইরে বহু দেশের বিভিন্ন ফোরামা কথা বলেছেন এবং যুদ্ধে বন্ধের উপায় খুঁজতে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। সম্প্রতি জার্মানির মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনেও বিশ্বনেতাদের স্পষ্টভাষায় যুদ্ধ বন্ধের আহবান জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সেই কথা জানিয়েছেনও তিনি। 

শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বটা গ্লোবাল ভিলেজ। একজনের ওপর আরেকজনের নির্ভরতা আছে। যুদ্ধ এক জায়গায় শুরু হলেও সেটা সেখানেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। এর প্রভাব পড়ছে সারা বিশ্বে। কষ্ট পাচ্ছে সারা বিশ্বের মানুষ। সবাই মূল্যস্ফীতির যন্ত্রণা পাচ্ছে। ইউরোপ, আমেরিকা—সব দেশই ভোগ করছে যুদ্ধের যন্ত্রণা।

সরকার প্রধান বলেন, আমরা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি। মিয়ানমারের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াইনি। আলোচনা করে যাচ্ছি ধৈর্য ধরে। সবাইকে বলেছি, শান্ত মাথায় সবকিছু মোকাবিলা করতে হবে। আর এ জন্যই দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে সুস্থ অবস্থায় আছি আমরা।

মিউনিখে সম্মেলনের ফাঁকে ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনার বিষয়বস্তু তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, ভলোদিমির জেলেনস্কিকে তিনি যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে সরাসরি জিজ্ঞাসা করেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে পেলেও একইভাবে কথা বলবেন।

তিনি বলেন, আমি ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্টকে সরাসরি জিজ্ঞেস করি যে, যুদ্ধটা কীভাবে বন্ধ করা যায় সেটা আমাকে বলেন। আমার সোজা প্রশ্ন ছিল, যুদ্ধ কীভাবে বন্ধ করা যায়, এটাতেতো সবাই কষ্ট পাচ্ছে; মহিলা, শিশু, যুব সমাজ কত জীবন দিচ্ছে। 

জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা আরও যোগ করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সাথে দেখা হলেও সেই একই কথাই আমি বলব যে, আমি যুদ্ধ চাই না, আপনি যুদ্ধ বন্ধ করেন। আমি আমার কথা বলে যাব, তারপর কেউ বুঝলে বুঝুক, আমার কিছু আসে যায় না।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নের পর জেলেনস্কির কী উত্তর ছিলো, এক সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে শেখ হাসিনা বলেন, উনি অনেক ব্যাখ্যা দিলেন, কী কী হয়েছে, অনেক কিছু।

মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশ নিতে ১৫ ফেব্রুয়ারি জার্মানিতে যান শেখ হাসিনা, ফেরেন ১৯ ফেব্রুয়ারি সকালে। সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকজন বিশ্ব নেতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হয় এই সফরে।