বিদেশি কূটনীতিকরা যাতে দেশ ও দেশের অগ্রগতি সম্পর্কে আরো ভালোভাবে জানতে পারেন এবং কাছ থেকে দেখতে পারেন, সে জন্যই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় 'এম্বেসেডরস আউটরিচ প্রোগ্রাম' আয়োজন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
বিশ্বের সামনে বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ তুলে ধরতে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার মিশন প্রধানসহ ৩৪ জন কূটনীতিককে নিয়ে চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল পরিদর্শন করে এসব কথা বলেন তিনি।
হাছান মাহমুদ বলেন, রাজধানীর বাইরে পরিদর্শনের মাধ্যমে কূটনীতিকরা বাঙালি জাতির সামর্থ্য এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সারা দেশে যে উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ চলছে, সেই খবরগুলো তাদের দেশে পৌঁছাবেন। ফলে তা বিশ্বময় ছড়িয়ে যাবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুইদিনব্যাপী 'এম্বেসেডরস আউটরিচ প্রোগ্রামের আওতায় প্রথমদিন মঙ্গলবার দুপুরে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও আন্তর্জাতিক সংস্থার মিশন প্রধানদের সাথে নিয়ে চট্টগ্রামে নেভাল একাডেমি এবং কর্ণফুলী টানেল পরিদর্শন করেন হাছান মাহমুদ।
এরপর ট্রেনে চড়ে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরুর আগে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
তার সঙ্গে রয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব ড. নজরুল ইসলাম এবং মন্ত্রণালয়ের পদস্থ কর্মকর্তারা।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদেশি রাষ্ট্রদূতরা যেনো আমাদের দেশকে আরও জানেন, দেশে যে বিরাট উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ হচ্ছে সেগুলো যেন তারা স্বচক্ষে দেখেন, সেই কারণেই তাদেরকে চট্টগ্রামে আনা হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনযোগে তারা কক্সবাজার যাবেন।
বিদেশি প্রতিনিধিদের এই পরিদর্শনে তাদের সাথে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে কি না –এই প্রশ্নের হাছান মাহমুদ বলেন, অবশ্যই তারা বাংলাদেশকে আরো ভালোভাবে জানতে পারবেন। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সফরে এসেছেন তারা। আজ চট্টগ্রামে কয়েক ঘণ্টা কাটালেন। কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম রোড টানেল তারা দেখলেন।
তিনি বলেন, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলংকাসহ দক্ষিণ এশিয়ার কোথাও নদীর তলদেশ দিয়ে রোড টানেল নেই। সেটি তারা দেখলেন। এই যে অসাধারণ উন্নয়ন, যেগুলো আজ থেকে ১৫-২০ বছর আগে মানুষ কল্পনাও করেনি, সেগুলো আজকে বাস্তব এবং সেই বাস্তবতা আজকে কূটনীতিকরা নিজের চোখে দেখেছেন।
কূটনীতিকদের ট্রেনে করে কক্সবাজার নেওয়া প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ট্রেন লাইন হয়েছিলো ১৯৩০ সালে। তারও আগে ব্রিটিশ আমলে ১৯০০ সালের পরপরই চট্টগ্রাম থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত ট্রেন লাইনের পরিকল্পনা করা হয়েছিলো।
‘এরপর দেশ ভাগ হলো। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবায়ন করে যেতে পারেননি। কারণ, তাকে সাড়ে তিন বছরের মাথায় হত্যা করা হয়েছিলো,’ বলেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই জনপদের মানুষ ১২৫ বছর আগে যে স্বপ্ন দেখেছিলো, আজকে বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সেটি বাস্তবায়িত হয়েছে। এই অসাধারণ কাজ কূটনীতিকদের দেখাবার জন্য চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে করে কক্সবাজার নিয়ে এসেছি।
‘তাদেরকে এখানে আনার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, তারা যেনো বাংলাদেশকে জানে ও চেনে। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত যে আমাদের দেশে, এই খবরটা যেনো তাদের মাধ্যমে বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়ে এবং বাংলাদেশের সৌন্দর্য ও উন্নয়ন সম্পর্কে তারা যেনো ভালো করে জানতে পারে। সেজন্যই তাদেরকে আমরা নিয়ে এসেছি,’ বলেন তিনি।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া, চীন, কোরিয়া, ইতালি, ডেনমার্ক, কসভো, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনাম, ভ্যাটিকান, ভুটান, স্পেন, আর্জেন্টিনা, লিবিয়া, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, মিশর, ফ্রান্স এবং এফএও, আইইউটি, একেডিএনসহ মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মিশন প্রধানরা আউটরিচ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।