দায়ীদের কীভাবে দায়মুক্তি দেয়া হয়, জানালেন সাবেক মন্ত্রী

বেইলি রোডে আগুনের ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানালেন সাবেক গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

শনিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এ বিষয়ে কথা বলেন সাবেক মন্ত্রী রেজাউল করিম।

শেখ হাসিনার হাতে দায়মুক্তির সংস্কৃতি ধ্বংস হয়েছে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, মন্তব্য করে সরকারি দলের এই সংসদ সদস্য বলেন, বড় বড় অপরাধীদের বিচার হয়েছে। সেক্ষেত্রে দায়মুক্তির সংস্কৃতি থেকে আমরা বেরিয়ে এসেছি। কিন্তু কিছু কিছু জায়গায় আরো কঠিন পদক্ষেপ নেয়া দরকার।

২০১৯ সালে বনানীর এফআর টাওয়ারের আগুনে ২৭ জনের মৃত্যু হয়। সে সময় গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ছিলেন শ ম রেজাউল করিম।

সেই ঘটনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বনানীর এফআর টাওয়ারে আগুন লাগার পরে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে কাজ করেছিলাম। তদন্ত করে ৬২ জনের বিরুদ্ধে আমরা রিপোর্ট দিয়েছিলাম। দুর্ভাগ্য সর্বোচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি রিপোর্ট দেয়ার পরও সবার বিরুদ্ধে মামলা হয়নি। তারপর চার্জশিট দেয়ার সময় অনেককে বাদ দেয়া হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, আজকে পর্যন্ত সে মামলার অভিযোগ গঠন পর্যন্ত হয়নি।

আওয়ামী লীগের এই সংসদ সদস্য বলেন, নারায়ণগঞ্জে একটি ফ্যাক্টরিতে ৫২ জন লোককে পুড়িয়ে হত্যা করা হলো (২০২১ সালে) । সে মামলার আসামিরা জেলে গেছে। সে মামলায় আজ পর্যন্ত বিচারকার্যক্রম শুরু হয়নি। এ রকম অনেক ঘটনা।

তিনি বলেন, এ জায়গায় আমার দাবি- এ জাতীয় অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত, প্রয়োজনে আইন পরিবর্তন ও স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল করে তাদের বিচার করা না হলে, শুধু এই অপরাধ নয়- অন্যদের কাছে একটা মেসেজ যাবে না। আমরা সে সময় ১৩০০ ভবন চিহ্নিত করেছিলাম গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে। যে মন্ত্রণালয়ের প্ল্যান ঠিক নেই, যে ভবনের অধিকাংশ ফ্লোর অননুমোদিতভাবে করা হয়েছে, সে ভবনগুলো কিন্তু ভাঙা সম্ভব হয়নি। এটাও কিন্তু এক প্রকার দায়মুক্তি দেয়া।