বাংলাদেশ সাফল্যের সঙ্গে সব পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে: অপরাজিতা হক

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞা কারণে পৃথিবীর বহুদেশের অর্থনীতি ধরাশায়ী হয়েছে। বেড়েছে খাদ্য ও জ্বালানি তেলের দাম। কিন্তু বাংলাদেশ সাফল্যের সাথে তা মোকাবিলা করছে বলে জানিয়েছেন  সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য অপরাজিতা হক। 

সোমবার সংসদ অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আওয়ামী সরকার গঠন করলেও একদিনের জন্যও বন্ধ থাকেনি বিএনপি, জামায়াত এবং তাদের বিদেশি দোশরদের ষড়যন্ত্র। ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ৫০ দিনের মাথায় ইতিহাসের নৃশংসতম বিডিআর হত্যাকাণ্ড। ২০১৩ সালে ঘটানো হয় হেফাজত তাণ্ডব, লাগাতার হরতাল এবং আগুন সন্ত্রাস। তারপরও ২০১৪ সালের পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচনে দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তৃতীয় বারের মতো ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে সমান্তরালভাবে চলতে থাকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং উন্নয়ন মহাযজ্ঞ। হাতে নেওয়া হয় ইতিহাসের বৃহত্তম ১০টি মেগা প্রকল্পসহ অসংখ্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। 

এই নির্বাচনে জামায়াত নিবন্ধন হারালেও ধানের শীষ মার্কায় মনোনয়ন দেওয়া হয় অন্তত ২৫ জন জামায়াত নেতাকে। এছাড়া তারেক রহমান লন্ডনে বসে একাধিক প্রার্থীর কাছে অর্থের বিনিময় মনোনয়ন বিক্রি করেন। এতে দেখা দেয় চরম দলীয় কোন্দল। তাই নির্বাচনের মাঠ ছেড়ে দেয় বিএনপি। আবারও ক্ষমতায় আসেন জাতির পিতার উত্তরাধিকারী। 

চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় এসে দুর্বার গতিতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিতে থাকেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জিডিপি প্রবৃদ্ধি আট শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। মহাসমারোহে মুজিব শতবর্ষ ও স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী উদযাপনের প্রস্তুতি নিতে থাকে জাতি। ঠিক তখনই নেমে আসে করোনা মহামারীর ভয়াবহতা। সীমিত পরিসরে উৎসব উদযাপনের পাশাপাশি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চলতে থাকে করোনা মোকাবিলা। আক্রান্তদের চিকিৎসা, ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা, উপার্জনে অক্ষম ব্যক্তিদের আর্থিক ও খাদ্য সহযোগিতা দেওয়া থেকে শুরু করে কোথাও এতটুকু পিছিয়ে ছিলনা বাংলাদেশ। থেমে যায়নি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও রপ্তানি কার্যক্রম। আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রথমবারের মতো ৪৮ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে দাঁড়ায়, যা অন্তত আট মাসের আমদানি খরচের সমান।

এদিকে করোনা মহামারীর আঘাত কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই শুরু হয় ইউক্রোন-রাশিয়া যুদ্ধ ও স্যাংশন। বাংলাদেশ তার রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ও রেমিট্যান্স প্রবাহ স্বাভাবিক পর্যায়ে ধরে রাখলেও জ্বালানি ও খাদ্যপণ্য আমদানি দ্বিগুণ হয়ে যায়। দেখা দেয় চরম বৈদেশিক মুদ্রা সঙ্কট। পৃথিবীর বহু উন্নত দেশ এই অভিঘাতে ধরাশায়ী হলেও বাংলাদেশ এখনও সাফল্যের সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে যাচ্ছে। করোনার সময় একটা বড় রিজার্ভ গড়ে উঠেছিল বলে আমদানি খরচ বৃদ্ধির এতো বড় আঘাত আমরা মোকাবিলা করতে পেরেছি। এখনও চার-পাঁচ মাসের আমদানি মেটানোর বৈদেশিক মুদ্রা আমাদের রিজার্ভ আছে।

অর্থনৈতিক বিশ্বমন্দার মধ্যে এই বছরের শুরুতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় চলে আসে। এসময় বিএনপি-জামায়াত তাদের বিদেশি প্রভুদের মদদে বাংলাদেশকে নিয়ে এক চরম অনিশ্চয়তার পরিস্থিতি তৈরি করে। সাত জানুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে অপপ্রচার ও গুজবের শেষ ছিল না। প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ দৃঢ়তার সঙ্গে সাংবিধানিক পথ ধরে আগাতে থাকেন এবং এক সময় সব বাধা অতিক্রম করে বিজয়ের বন্দরে পৌঁছে যান।