জলদস্যুরা সোমালিয়ারই কিনা, সন্দেহ নৌ প্রতিমন্ত্রীর 

ভারত মহাসাগর থেকে ২৩ নাবিকসহ বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ জিম্মি করা জলদস্যুরা সোমালিয়ার কিনা, তা নিয়ে নিশ্চিত নন নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

কয়লা বোঝাই করে মোজাম্বিক থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাওয়ার পথে মঙ্গলবার সোমালি জলদস্যুদের কবলে পড়ে বাংলাদেশে কবির গ্রুপের মালিকানাধীন ‘এমভি আবদুল্লাহ’।

এরপর জাহাজটিকে সোমালিয়ার উপকূলের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে সকালে জানান নৌ পরিবহণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মোহাম্মদ মাকসুদ আলম।

দুপুরে নৌ প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই জলদস্যু কি সোমালিয়ার নাকি অন্য কোনো দেশের, তা সরাসরি বলা যাবে না। তবে অঞ্চলটি সোমালিয়ার মধ্যে।’

সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসু থেকে প্রায় ৬০০ নটিক্যাল মাইল পূর্ব দিকের মহাসাগরে কয়েকটি স্পিড বোট ও মাছ ধরার বড় নৌকা নিয়ে সশস্ত্র দস্যুরা জাহাজে প্রবেশ করে নিয়ন্ত্রণ নেয়। জিম্মি করে ফেলে এর ২৩ নাবিককে।

কমডোর মোহাম্মদ মাকসুদ আলম বলেন, জাহাজটি সোমালিয়া কোস্টের দিকে ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছে। সোমালিয়া কোস্ট থেকে এখনও ৪১০ নটিক্যাল মাইল দূরে রয়েছে।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।। তারা কাজ করছে কীভাবে নিরাপদে নিয়ে আসা যায়।  

জাহাজটি জলদস্যুদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভালো কোনো সংবাদ এলেই তা জানানো হবে।

‘আন্তর্জাতিক যে উইংগুলো আছে, তারা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ভারতের সাথেও কথা হয়েছে। তারা কীভাবে সহায়তা করবে, সেটি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে,’ যোগ করেন নৌ প্রতিমন্ত্রী।

এমভি আবদুল্লাহর প্রধান কর্মকর্তা আতিক উল্লাহ খান দস্যুদের কবলে পড়ার পর স্ত্রীকে এক বার্তা পাঠিয়ে জানিয়েছেন, টাকা না দিলে আমাদেরকে মেরে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে দস্যুরা।

এ বিষয়ে নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাদের হত্যা করার কোনো হুমকি দিয়েছে কিনা, এমন তথ্য আমাদের কাছে নেই।

‘জলদস্যুদের সাথে যোগাযোগ করার কিছু সংগঠন আছে। সবার সহযোগিতা নেয়া হবে,’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২৩ জন নাবিকের জীবন নিরাপদ রাখা এবং নিরাপদে নিয়ে আসা হলো প্রথম কাজ।

খালিদ মাহমুদ বলেন, দস্যু আর মানুষ এক জিনিস নয়। নিদিষ্ট সময় বলে দেয়া যাবে না যে, কবে মুক্ত করা যাবে।

চট্টগ্রামভিত্তিক ব্যবসায়ী গোষ্ঠী কবির গ্রুপের মালিকানাধীন এসআর শিপিংয়ের একটি জাহাজ হলো এমভি আবদুল্লাহ। ২০১০ সালের ৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশের পতাকাবাহী এমভি জাহান মণি ছিনতাই করে করে সোমালি জলদস্যুরা। ওই জাহাজটিও ছিলো কবির গ্রুপের।

সে সময় দরকষাকষি করে চুক্তির মাধ্যমে ২৫ নাবিকসহ জাহাজটি ছাড়িয়ে আনে মালিকপক্ষ। তবে চুক্তির শর্ত কখনোই প্রকাশ করা হয়নি।