দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই নিপীড়ন বিরোধী সেল

যৌন নিপীড়ন রোধে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিপীড়ন বিরোধী সেল থাকার কথা। কিন্তু বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানেই তা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেও অভিযোগ জমা পড়ে কম। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকলেও কেউ মানছে না।

উচ্চশিক্ষা লাভ করে জীবনের লক্ষ্য পূরণের স্বপ্ন নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় আসে। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে সহপাঠী বা শিক্ষকের দ্বারা নিপীড়নের শিকার হলে কী প্রতিকার? উচ্চ আদালতের নির্দেশনা আছে দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ সেল থাকবে।

কিন্তু অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে তার দৃশ্যমান অস্তিত্ব নেই। তারপরেও কেউ অভিযোগ দিলে শিক্ষকদের অসহযোগিতার পাশাপাশি জোটে নানান হুমকি। আছে লোকলজ্জা ও সামাজিক চাপ ও পড়াশোনা বন্ধ হাবার শঙ্কা। তাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে অনেকে শিক্ষাজীবন শেষ করেন। আর কেউ কেউ অবন্তিকার মত আত্মহননের পথ বেছে নেন।

data_1

মহিলা পরিষদের পরিসংখ্যান বলছে প্রতিবছরই বাড়ছে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন ও উত্যক্তের ঘটনা আর এর ফলে আত্মহত্যার সংখ্যা।

উচ্চ আদালতের নির্দেশনা সত্যেও এতবছরে নিপীড়ন বিরোধী পূর্নাঙ্গ আইন না হওয়ায় হতাশ সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। রাজনৈতিক প্রভাব, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনে অযোগ্য ব্যক্তি আর সচেতনতার অভাবে এ ধরনের ঘটনা বেড়েই চলেছে বলছেন তারা।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এডভোকেট দিপ্তী সিকদার জানালেন, কমিটিটা হাইকোর্ট যেভাবে গঠন করে দিয়েছে, সেভাবে হয়নি। কমিটির সদস্য যাদের করা হয়েছে, তারা কতটুকু লিঙ্গ সচেতন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

data_2

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওমেন এন্ড জেন্ডার স্টাডিজের অধ্যাপক ড. সৈয়দ শাইখ ইমতিয়াজ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্য মানুষের অভাবের কারণে তদন্ত প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে নারীবান্ধব করে গড়ে তোলার জন্য শিক্ষক ও ছাত্রদের গড়ে তোলা প্রয়োজন ছিলো। একটা সীমা নির্ধারণ সবক্ষেত্রেই জরুরী বলে মনে করেন তিনি। প্রক্টরিয়াল বডির নিপীড়ন বিষয়ক অভিযোগগুলো নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারীর জন্য মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনে যোগ্য ব্যক্তির পাশাপাশি সচেতনতা ও সমন্বিত প্রয়াস প্রয়োজন। এছাড়া কঠোর আইন প্রণয়ন ও দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ারও সুপারিশ বিশেষজ্ঞদের।