দীর্ঘ ১১ বছর পর বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় আসছেন ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক। সোমবার সকাল ১০টায় একটি বিশেষ ফ্লাইটে তার ঢাকায় পৌঁছার কথা রয়েছে।
এই সফরে তার সঙ্গে রানি জেতসুন পেমাসহ একটি প্রতিনিধিদলও বাংলাদেশে আসছেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও তার স্ত্রী রেবেকা সুলতানা বিমানবন্দরে রাজা ও রানিকে অভ্যর্থনা জানাবেন।
এর আগে, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক ও রানি জেতসুন পেমা।
বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার প্রথম স্বীকৃতিদানকারী দেশ ভুটান। এ সফরে রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক ও রানি জেতসুন পেমা বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
এছাড়া দুই দেশের মধ্যে তিনটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং একটি নবায়ন হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং দূতাবাস কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
ঢাকায় পৌঁছে রাজা প্রথমেই যাবেন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে। সেখানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাবেন তিনি। সেখান থেকে রাজা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে যাবেন।
সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাবেন রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে স্বাগত জানাবেন। পরে দুজন কিছুক্ষণ একান্তে বৈঠক করবেন।
এরপর রাজা ও প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নেবেন। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক দিক আলোচনা-পর্যালোচনা করা হবে। এতে বিশেষ করে ভুটান থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানি, বাণিজ্য, পর্যটন, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে বলে জানা গেছে।
বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে তিনটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং একটি সমঝোতা নবায়ন হবে। সেগুলো হলো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে ভুটানে বার্ন ইউনিট স্থাপন, কুড়িগ্রামে ভুটানের বিনিয়োগের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন এবং কনজ্যুমার প্রোডাক্টের বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর। এছাড়া দুই দেশের সাংস্কৃতিক বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক নবায়ন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ আগ্রহে ভুটানে বার্ন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করে দেবে বাংলাদেশ। ভুটানের জনগণের জন্য উপহার হিসাবে এ উদ্যোগ।
সফরের দ্বিতীয় দিন ২৬ মার্চ ভোর সাড়ে পাঁচটায় সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাবেন ভুটানের রাজা। এসময় সেখানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও উপস্থিত থাকবেন। রাজা মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন এবং সেখানে একটি বৃক্ষরোপণ করবেন।
স্মৃতিসৌধ থেকে ফিরে সকাল সাড়ে ১০টায় রাজা রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে যাবেন। সেখানে ভারত থেকে ফিরে এসে বাংলাদেশে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হওয়া ভুটানের রোগী কারমা দেমার সঙ্গে কথা বলবেন।
২৬ মার্চ বিকালে রাজা ও রানি বঙ্গভবনে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিপরিষদ সদস্যসহ উচ্চপর্যায়ের সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা এবং সমাজের বিশিষ্ট নাগরিকরা উপস্থিত থাকবেন। পরে বঙ্গভবনে ইফতার ও ডিনারে অংশ নেবেন রাজা-রানিসহ অতিথিরা।
২৭ তারিখ সকালে পদ্মা সেতু পরিদর্শনে যাবেন ভুটানের রাজা। এদিন আড়াইহাজারে জাপান-বাংলাদেশের যৌথ ব্যবস্থাপনার ইপিজেড পরিদর্শন করবেন তিনি। বিকাল ৪টায় ঢাকায় বাংলাদেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন ভুটানের রাজা। বাংলাদেশের ভুটান দূতাবাস এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।
২৮ মার্চ ঢাকা থেকে বিমানে সৈয়দপুর যাবেন রাজা। সেখান থেকে সড়কপথে কুড়িগ্রামের ইপিজেডে যাবেন। ইপিজেড পরির্দশন শেষে সড়কপথে রওয়ানা দিয়ে সোনাহাট ল্যান্ডপোর্ট দিয়ে ভারতের আসাম হয়ে ভুটান যাবেন। তবে রানি এবং রাজার সফর সঙ্গীদের একাংশ ২৭ তারিখে বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফিরবেন।
ভুটানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শিবনাথ রায় শনিবার রাতে যুগান্তরকে বলেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ আমন্ত্রণে ৪ দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় আসছেন ভুটানের রাজা-রানি। মহান স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা ছাড়াও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। বাংলাদেশের সঙ্গে ভুটানের সম্পর্ক ঐতিহাসিক।
এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যকার চলমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশে মহান স্বাধীনতার প্রথম স্বীকৃতিদানকারী দেশ ভুটান। মহান স্বাধীনতার মাসে দেশটির রাজার এ সফর এবং স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।