বিমান কি পারবে রোম ফ্লাইট চালু রাখতে?

লোকসানের কারণে দীর্ঘ ৯ বছর বন্ধ থাকার পর ফের ঢাকা-রোম ফ্লাইট চালু করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, কিন্তু প্রচণ্ড যাত্রী চাপ থাকা সত্ত্বেও বিমান এই রুটের ফ্লাইট চালু রাখতে পারবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রবাসীরা।

বুধবার আবারো ইতালির রাজধানী রোমের মাটিতে পা রেখেছে বিমান। এর মাধ্যমে ইউরোপের এই দেশটিতে থাকা প্রায় তিন লাখ প্রবাসীর ঢাকা-রোম যাতায়াতের সহজ দুয়ার আবার উন্মুক্ত হলো।  

বহরে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির নতুন নতুন উড়োজাহাজ যোগ হওয়ার পর এই প্রথম ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত কোনো দেশে বিমানের যাত্রা শুরু হলো।

বিমানের ঢাকা-রোম ফ্লাইট নিয়ে যাত্রীদের আগে রয়েছে তিক্ত অভিজ্ঞতা। যাত্রীর অভাব না থাকলেও দুর্নীতির কারণেই ২০১৫ সালে বন্ধ করে বিমানের রোম ফ্লাইট দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন প্রবাসীরা।

আর একই ঘটনার যেনো পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তাই বিমানের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি বন্ধে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বুধবার স্থানীয় সময় সকাল নয়টার দিকে ইতালির অন্যতম ব্যস্ত লিওনার্দো দা ভিঞ্চি–ফিউমিচিনো বিমানবন্দরে অবতরণ করে বিমানের বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার।

এরপর সন্ধ্যায় রোম ফ্লাইটে উদ্বোধন উপলক্ষ্যে স্থানীয় একটি হোটেলে মতবিনিময় ও ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়।

Rome Flight 1

সেখানে প্রবাসীরা যেমন উচ্ছ্বাস যেমন প্রকাশ করে, তেমনি ৯ বছর আগে বিমান কেনো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল সেই ক্ষোভও জানান।

প্রবাসীদের দাবি, বিমানে অব্যবস্থাপনা, অপ্রয়োজনীয় লোকবল সর্বোপরি টিকেট নিয়ে দুর্নীতির কারণে বিমান তখন লোকসানে পড়েছিলো।

ঢাকা থেকে রোমে বিমানের প্রথম ফ্লাইট চালু হয় ১৯৮১ সালের এপ্রিলে। কিন্তু লোকসানের কারণ দেখিয়ে ২০১৫ সালের ছয় এপ্রিল থেকে রোম ফ্লাইট বন্ধ করে দেয় বিমান।

অনুষ্ঠানে প্রবাসীরা বলেন, তিন লাখের মতো বাংলাদেশি প্রবাসী আছে ইতালিতে। এখানে যাত্রীর কোনো অভাব হবে না।

‘এরপরও যদি লোকসান হয়, তাহলে বুঝতে হবে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা থেকে বিমান এখনো বের হতে পারেনি,’ যোগ করেন তারা।

rome2

তবে এবার আর লোকসান হওয়ার সুযোগ নেই বলে মনে করছেন বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শফিউল আজিম।

তিনি বলেন, ২০১৫ সালে বিমানের বহরে ছিলো ভাড়ায় আনা উড়োজাহাজ। আর এখন ড্রিমলাইনারসহ ২১ টি নিজস্ব উড়োজাহাজ আছে।

‘তাই লোকসান হওয়ার সুযোগ কম। আর টিকেটও হবে অনলাইনভিত্তিক, যেখানে দুর্নীতির সুযোগ থাকবে না,’ বলেন তিনি।

আগামী পহেলা এপ্রিল থেকে গ্রীষ্মকালীন সূচি অনুযায়ী প্রতি সোম, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে রাত ৪টায় যাত্রা করে রোমে পৌঁছাবে সকাল ১০ টা ১০ মিনিটে।

রোম থেকে স্থানীয় সময় সকাল ১১ টা ৪৫ মিনিটে যাত্রা করে ঢাকায় পৌঁছাবে পরের দিন রাত ১২ টা ৩০ মিনিট। প্রতি ফ্লাইট চালানো হবে বিমানের বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার দিয়ে।