মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের আকাশ সীমা ব্যবহার করতে পারছে না বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। গণমাধ্যমে আসা এমন খবর সত্য নয় বলে জানালেন বিমানের ফ্লাইট অপারেশন্সের পরিচালক।
তিনি জানান, আকাশ সীমা ব্যবহারের জন্য যে ওভার ফ্লাইং চার্জ দিতে হয় ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে সে অর্থ পরিশোধে কিছুটা সমস্যা হলেও, ফ্লাইট চলাচলে বাধা নেই।
ঢাকা টু রোম ফ্লাইট চালুর পরই, নানা রকম নেতিবাচক খবর ছড়তে থাকে বিভিন্ন গনমাধ্যমে। যেমন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারনে বিমান ইরানের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না।
ফলে ঘুর পথে ইতালি যেতে বিমানের খরচ হবে বেশী। তাই আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারবে না বিমান। কিন্তু বাস্তবতা হলো বিমানের ফ্লাইটগুলো ইরানের ওপর দিয়েই চলাচল করছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিমানের ফ্লাইট অপারেশন্স বিভাগের পরিচালক ক্যাপ্টেন সিদ্দিক রহমান জানান, ওভারফ্লাইং চার্জ পরিশোধে সমস্যা হলেও, ইরান এ নিয়ে কখনোই কোন চাপ প্রয়োগ করেনি।
তিনি বলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে অর্থ লেনদনে সমস্যার বিষয়ে ইরান ভালো করেই জানে। তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এতোই বন্ধু প্রতীম যে, তারা চার্জ পরিশোধের বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ না।
তিনি আরও বলেন, ইরান ভালো করেই জানে, আজ হোক কাল হোক কিংবা এক বছর পরে হলে বাংলাদেশ ওভারফ্লাইং চার্জ পরিশোধ করবে। ফলে এই নিয়ে ইরান শুরু থেকেই কোন কথা বলেনি।
ইরানের আকাশ দিয়ে বিমান বাংলাদেশ উড়তে পারে না, এই খবরকে উড়িয়ে দিয়ে অভিজ্ঞ পাইলট ক্যাপ্টেন সিদ্দিক বলেন, এটা একদমই ঠিক নয়। ইতালি ও কানাডা যেতে আমরা ইরানের আকাশ ব্যবহার করছি।
ঢাকা রোম ফ্লাইটে রোম থেকে ফেরার পথে ককপিটে বসে একাত্তরকে দেয়া সাক্ষাতকারে ক্যাপ্টেন সিদ্দিক জানান, ইতালি ও কানাডা দুটি দেশে যেতে কোন বিপত্তি ছাড়াই ইরানের আকাশ ব্যবহার করছে বিমান।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট অপারেশন্স পরিচালক আরও জানান, রাজনৈতিক ভাবে প্রচন্ড বৈরি সম্পর্ক থাকা সত্বেও অনেক দেশ এখনো বাধাহীন ভাবে ইরানের আকাশ সীমাই ব্যবহার করছে।
২৬ মার্চ দিবাগত রাত সাড়ে তিনটায় ঢাকা থেকে বিমানের প্রথম ফ্লাইট বিজি-৩৫৫ রোমের উদ্দেশে যাত্রা করে। বিমানের প্রথম ফ্লাইট রোমে পৌঁছায় ২৭ মার্চ স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে আটটার দিকে।
ফিরতি ফ্লাইট রোম থেকে বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ১০টায় যাত্রা করে ঢাকায় পৌঁছায় রাত সোয়া ১২টায়। সরাসরি এই ফ্লাইট চালু হওয়ায় খুশি প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
তবে শুরু থেকে এই রুটে বিমান চলাচলের বিরোধীতা শুরু করে নানা অপপ্রচার শুরু হয়। এরমধ্যে ইরানের আকাশসীমা ব্যবহার না করতে পারার খবরটি আলোচনার জন্ম দিলেও কোন ভিত্তি নেই।