অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার দুই লাখ ৪৫ হাজার ২শ ডোজ টিকা ঢাকায় পৌঁছেছে। শনিবার (২৪ জুলাই) বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে টিকা বহনকারী বিশেষ বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমানবন্দরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন টিকাগুলো গ্রহণ করেন। এ সময় ঢাকায় নিযুক্ত জাপান দূতাবাসের কর্মকর্তারা এবং স্বাস্থ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
টিকা গ্রহণের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, ভবিষ্যতে করোনা টিকার আর কোনো সংকট হবে না।
এসময় জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, আগামী ১ মাসের মধ্যে আরও প্রায় ২৮ লাখ টিকা জাপান থেকে বাংলাদেশে আসবে।
এর আগে গত ১৩ জুলাই (মঙ্গলবার) এক ফেসবুক পোস্টে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন জানিয়েছিলেন, ‘কোভ্যাক্সের’ আওতায় জাপান ২৯ লাখ টিকা পাঠাবে। এছাড়া চীন ১০ লাখ ডোজ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ১০ লাখ ডোজ টিকা বাংলাদেশকে দেবে।
জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি ১৫টি দেশের জন্য ১ কোটি ১০ লাখ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কোভ্যাক্সের আওতায় দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ওই তালিকার আওতায় বাংলাদেশকে কয়েক ধাপে ২৯ লাখ আ্যস্ট্রাজেনেকার টিকা দেবে জাপান।
প্রসঙ্গত, ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে কোভিশিল্ডের তিন কোটি ডোজ টিকা কেনার জন্য গত বছরের শেষ দিকে চুক্তি করেছিল বাংলাদেশ। সেই টিকার প্রথম চালান পাওয়ার পর ৭ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে গণ-টিকাদান শুরু হয়। কিন্তু দুই চালানে ৭০ লাখ ডোজ পাঠানোর পর ভারত রপ্তানি বন্ধ করে দিলে সঙ্কটে পড়ে বাংলাদেশ। পর্যাপ্ত টিকা না থাকায় ২৫ এপ্রিল দেশে প্রথম ডোজ দেয়া বন্ধ হয়ে যায়। যারা প্রথম ডোজে কোভিশিল্ড নিয়েছেন, তাদের সবাইকে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ১১ জেলায় ১২১ মৃত্যু
সরকার চীনসহ বিভিন্ন উৎস থেকে বিভিন্ন কোম্পানির টিকা সংগ্রহের ব্যবস্থা করলেও যারা প্রথম ডোজে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিয়েছেন, তাদের জন্য ওই টিকার বিকল্প নেই। এ পর্যন্ত যারা প্রথম ডোজ পেয়েছেন তাদের সবার দ্বিতীয় ডোজ পূর্ণ করতে হলে আরও ১৫ লাখ ২১ হাজার ৯৪৭ ডোজ টিকা দরকার।
একাত্তর/আরএ