দেশের ইতিহাসে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ ৭৬ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তর। এতো দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র তাপদাহ দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যায়নি।
প্রচণ্ড তাপদাহ হাঁসফাঁস অবস্থা চলছে জনজীবনে। আরো কয়েকদিন তীব্র দাবদাহের দাপট চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে রোববার পর্যন্ত জারি থাকা হিট অ্যালার্টের মেয়াদ আরেক দফা বাড়তে পারে।
তবে এর পরেই অর্থাৎ মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই দেশজুড়ে বৃষ্টি নামায় তাপমাত্রা কমে আসবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, পুরো এপ্রিল মাস জুড়েই তাপপ্রবাহের এই অস্বস্তিকর অবস্থা বিরাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে।
‘এতো লম্বা সময় তাপপ্রবাহ ছিলো না। পুরো দেশব্যাপী ৭৫ বছর পর এতো লম্বা সময় ধরে তাপপ্রবাহ বিরাজ করছে,’ বলেন তিনি।
আবহাওয়া অফিসের হিসাবে, দেশের ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে টানা ২৪ দিন ধরে। ১৯৪৮ সাল থেকে এক বছরে এতোদিন ধরে তাপপ্রবাহ চলমান থাকার রেকর্ড নেই।
কমপক্ষে টানা দুদিন তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে তা তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সাধারণত ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে ধরা হয় মৃদু তাপপ্রবাহ। ৪০ ডিগ্রি পর্যন্ত মাঝারি, আর ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে ধরা হয় তীব্র তাপপ্রবাহ।
তবে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলেই, তা অতি তীব্র হিসেবে বিবেচিত হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাবে, এপ্রিলের শুরু থেকেই রাজশাহী বিভাগ দিয়ে তাপপ্রবাহ শুরু হয় এবং পরে তা সারাদেশেই ছড়িয়ে পড়ে এবং কোথাও কোথাও অতি তীব্র তাপপ্রবাহে রূপ নেয়।
এরি মধ্যে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা চুয়াডাঙ্গাতে গত এক সপ্তাহেই ৪২ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তিনবার।
শুক্রবার বেলা তিনটায় চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রার পারদ পৌঁছেছে ৪২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা চলতি বছরে চলতি বছরে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড।
তবে স্বস্তির খবর হলো এপ্রিলের ভয়াবহতা শেষে মে মাসের শুরুতেই কমতে থাকবে গরমের দাপট। পহেলা মে থেকে দেশের আকাশে বাড়বে মেঘের ঘনঘটা। দুই মে থেকে দেশজুড়ে বৃষ্টি শুরু হওয়ার পাশাপাশি কালবৈশাখী ঝড়ের পূর্বাভাসও দিচ্ছে আবহাওয়া অফিস।
এদিকে তীব্র গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বেশ কয়েকজনের এরি মধ্যে কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। প্রচণ্ড গরমে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বেশিরভাগ এলাকার জনজীবন। বাড়ছে গরমজনিত অসুস্থতা, হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর ভিড়।
রাস্তায় লোকজনের চলাচল কমে গেছে। কাজ না পেয়ে কমেছে খেটে খাওয়া মানুষের রোজগার। সব মিলিয়ে নাজেহাল মানুষ। মড়ক লেগেছে মুরগির খামারে। প্রচণ্ড তাপদাহে মারা যাচ্ছে ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগি। উৎপাদন নিয়ে শঙ্কায় পড়েছে আম চাষীরা।