তীব্র গরমে স্কুল খোলা নিয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেছেন, ঢাকা শহরের তাপমাত্রা বিবেচনা করে সারাদেশের বিদ্যালয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানসিকতা পরিহার করতে হবে। জনপ্রিয়তার আলোকে সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। বাস্তবতার নিরিখে নিতে হবে। ঢাকা শহরের তাপমাত্রা সারাদেশের তাপমাত্রা নয়।

রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা সপ্তাহ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সারাদেশে বইছে তীব্র তাপপ্রবাহ। পরিস্থিতি বিবেচনায় আবহাওয়া অধিদপ্তর জারি করেছে ‘হিট অ্যালার্ট’। এর মধ্যেই রোববার খুলছে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস চলছে। সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন এনে খুলে দেওয়া হয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ও। তবে কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ক্ষেত্রে।

ঈদের ছুটি শেষে স্কুল-কলেজ খোলার কথা ছিলো গত ২১ এপ্রিল। কিন্তু তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে ছুটি বাড়ানো হয় ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত।

গরমের মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার নিয়ে নানা সমালোচনার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী মহিবু হাসান বলেন, যে পূর্বাভাস পাওয়া গেছে, তাতে দেখা যায় পাঁচটি জেলায় তাপমাত্রা ৪০ এর পর্যায়ে আছে। তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি বাংলাদেশে নতুন নয়। সুতরাং পাঁচটি জেলায় তাপমাত্রা ৪০ এর ওপরে যাওয়ার পূর্বাভাসের ভিত্তিতে সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়াটা যুক্তিযুক্ত নয়।

তিনি বলেন, তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি বা তার বেশি হলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের স্কুল স্থানীয় প্রশাসন বন্ধ করতে পারবে। তাপমাত্রা সব জেলায় সমান নয়। যেমন, চট্টগ্রামে তাপমাত্রা ৩৫-৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেখানে স্কুল বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

মন্ত্রী বলেন, কয়েকটি জেলায় সেখানে যদি অসহনীয় পর্যায়ে (তাপমাত্রা) যায়, বিদ্যালয় সেখানে নিজস্ব পদ্ধতিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

কোনো জেলায় তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি বা তারও বেশি বা প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ হলে করণীয় বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও একটি নির্দেশনা দেওয়া আছে। সেটি আমরাও সমন্বয় করবো।

তিনি বলেন, এলাকাভিত্তিক যদি ৪২ ডিগ্রির ওপর তাপমাত্রা যায়, তাহলে সেখানে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আছেন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আছেন, তারা আঞ্চলিক পর্যায়ে আলোচনা করে সেই জায়গায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে পারেন এবং সময়সীমাও পরিবর্তন করতে পারেন, এটা অঞ্চলভেদে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কিছু হলেই প্রথমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে হবে, এ ধারণা রাখা চলবে না। আমাদের নতুন কারিকুলাম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক। তাই শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে আসা জরুরি। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে অনলাইন ক্লাস করা যেতে পারে। মন্ত্রণালয়ের এতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু মাধ্যমিক পর্যায়ে নতুন কারিকুলামের কারণে অনলাইন ক্লাস নেওয়া সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, শনিবার স্কুল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে। ক্ষতি কাটিয়ে উঠলে আবারও মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।