‘জলবায়ুর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গাছ, জলাধার রক্ষার বিকল্প নেই’

তাপপ্রবাহ, পরিবেশ ও জলবায়ুর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গাছপালা, জলাধার রক্ষার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন দেশের বিশিষ্টজনরা। একই সাথে তাপপ্রবাহ দীর্ঘ হলে তা প্রতিরোধে পরিকল্পনা থাকা জরুরি বলেও মনে করেন তারা।

শনিবার দেশের সম্পাদকদের শীর্ষ সংগঠন এডিটরস গিল্ডের ‘তাপপ্রবাহ-পরিবেশ-জলবায়ুর চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন তারা।

বক্তারা আরও বলেন, উন্নয়ন করতে গিয়ে পরিবেশের অনেক কিছুই ধ্বংস করা হয়েছে। বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে ২০৩০ সালের মধ্যে ৩৫ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ কমাতেই হবে। তবে তা কার্যকর হচ্ছে না। পরিবেশ সুরক্ষায় নেয়া নীতিগুলো বাস্তবায়ন না হলে তীব্র গরমে দুর্যোগ বাড়তে থাকবে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, জলাধার, গাছপালা, খালবিল রক্ষা করতে না পারায় আজকের এই পরিস্থিতি। নীতি নির্ধারণে পরিবেশ সংরক্ষণের কথা থাকলেও উন্নয়নের নামে তা ধ্বংস করা হচ্ছে। তাদের মতে, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি পরিবেশ ধ্বংসের কারণ।

স্থপতি অধ্যাপক রফিক আজম বলেন, আমরা যে পরিমাণ পানি পাই, তা আমরা ধরে রাখতে পারি না। ধরে রাখতে পারলে এসব সময়ে তাপপ্রবাহ কমে আসতো।

ঢাবির ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম শহিদুল ইসলাম বলেন, ২০৪১ সালের দিকে আমরা একটা উন্নত দেশ হতে যাচ্ছি। সেসময় আমাদের উন্নত দেশের মতো হাউজিং, যানবাহন ও অন্যান্য জিনিস থাকতে হবে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সহ-সভাপতি স্থপতি ইকবাল হাবীব মনে করেন, নগরায়ণের নামে অপধ্বংস শুরু হয়েছে। বলা হয়েছে, নগরীর সুবিধা গ্রামে নিবেন; এখন সকলের ধারণা গ্রামকে শহর বানানোর কথা বলা হচ্ছে।

সবুজ সংরক্ষণের কথা সংবিধানেই বলা হয়েছে। কিন্তু সমন্বয়ের অভাবে তা লঙ্ঘিত হচ্ছে বলছেন পরিবেশ সংশ্লিষ্টরা।

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. জিয়াউল হক বলেন, আমাদের অর্থনৈতিক উন্নতি এবং অন্যান্য বিষয়গুলো সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে হবে। প্রথমেই দেখতে হবে, আমরা সমন্বীতভাবে সবাইকে নিয়ে কাজটা করতে পারছি কিনা।

দুর্যোগ বিষয়ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মাহবুবা নাসরিন বলেন, আমরা সবাই কার্বন নিঃসরণকে দায়ী করি। কিন্তু আমরা যে পরিবেশের ক্ষতি করি, সেদিকে আমাদের মনোযোগ থাকে না।

অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবীর মনে করেন, যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়, তার মধ্যে সমন্বয় নেই। তিনি বলেন, আমরা একদিকে উন্নয়ন করছি, আরেকদিকে বলছি গাছ লাগান। আবার পরেরদিনই তা কেটে ফেলা হচ্ছে।

তাপমাত্রা বাড়ার কারণে উৎপাদন কমবে। তাই কৃষিতে জলবায়ু বান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের তাগিদ আলোচকদের। পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবেলার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা চান তারা।

অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জামান বলেন, আমরা যখন নীতি-নির্ধারকদের দিকে দেখতে যাই- তখনি রাজনীতি চলে আসে।

পানি সম্পদ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত বলেন, মাঝারি এবং দীর্ঘমেয়াদি অভিযোজন চাহিদাগুলো চিহ্নিত করতে এবং মোকাবেলা করার জন্য ন্যাপের মতো কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমাদের এসব পরিকল্পনার ভিত্তিতে এগোতে হবে।

এডিটরস গিল্ডের সভাপতি ও একাত্তর টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক এবং গোলটেবিল আলোচনার সঞ্চালক মোজাম্মেল বাবু বলেন, কোনো অজুহাতেই নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বন্ধ করা যাবে না।

তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি যে যাত্রা শুরু হয়েছে তা যেনো কৃষি জমি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, এমন অজুহাতে বন্ধ হয়ে না যায়। এখানেও প্রযুক্তি রয়েছে। যার মাধ্যমে কৃষি জমি নষ্ট না করেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি আমাদের উপহার দিতে পারে।

তাপপ্রবাহ-পরিবেশ ও জলবায়ুর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একসাথে কাজ না করলে ফল আসবে না, বলছেন আলোচকরা।