ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে দেশের ১৩৯ উপজেলায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বুধবার সকাল আটটা থেকে শুরু হওয়া ভোট চলবে বিকেল চারটা পর্যন্ত।
১৩৯টি উপজেলা পরিষদে প্রতিটি উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে এক হাজার ৬৩৫ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৫৭০, ভাইস চেয়ারম্যান ৬২৫ এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪৪০ জন।
প্রথম ধাপে চেয়ারম্যান পদে আট, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১০ করে অর্থাৎ ২৮ জন ইতিমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় দুই কোটি ৮০ লাখের বেশি মানুষ এই পর্বে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে।
নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে ইতিমধ্যে সব প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই ধাপে ২২টি উপজেলায় ইভিএমে এবং ১১৭টিতে ব্যালটে ভোট হবে।
এদিকে রাঙ্গামাটিসহ দেশের কিছু এলাকায় বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ভোটে কেন্দ্রে যাচ্ছেন ভোটারা। তবে ওই এলাকাগুলোতে ভোটের লাইন খুব দীর্ঘ নয়। ভোট শুরু পর এক ঘণ্টায় ভোট পড়েছে যৎসামান্য। সংশ্লিষ্টদের আশা, বৃষ্টি কমলে এবং বেলা বাড়লে ভোটারের উপস্থিতি বাড়বে।
সকাল ৯টা পর্যন্ত ভোট নিয়ে দেশের কোথাও কোনো অপ্রীতিকর খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে সোমবার মধ্যরাতে ভোটের প্রচার শেষ হওয়ার পর মঙ্গলবার কেন্দ্রগুলোতে ভোটের সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। কিছু দুর্গম এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থায় পৌঁছে গেছে নির্বাচন সরঞ্জাম।
এবার স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে চার ধাপে। প্রথম ধাপের ভোট হচ্ছে রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের ১৩৯টি উপজেলা পরিষদে।
২১ মে দ্বিতীয় ধাপে ১৬০টি উপজেলায়, ২৯ মে তৃতীয় ধাপে ১১০ উপজেলায় এবং ৫ জুন চতুর্থ ধাপে ৫০টির বেশি উপজেলায় ভোটগ্রহণ করা হবে।
ইসি জানিয়েছে, নির্বাচনে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ১২ হাজার ৭৮০ জন সদস্য মোতায়েন থাকবে এবং রিজার্ভ থাকবে এক হাজার ৮৩০ জন। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানিয়েছে, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ এর আওতায় ৬ থেকে ১০ মে পর্যন্ত নির্বাচনি এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে বিজিবি মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ৪১৮ প্লাটুন বিজিবি কাজ করবে।
নির্বাচনে মোট পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে ৮২ হাজার ৭৩৩ জন। এর মধ্যে ভোটকেন্দ্রে ৪১ হাজার ৫৩০ জন, মোবাইল টিমে ১১ হাজার ৮৮৩ জন, স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ৫ হাজার ৩৬৮ জন এবং অন্যান্য ডিউটিতে ২৩ হাজার ৮৫২ জন।
মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে র্যাব মোতায়েন থাকবে দুই হাজার ৩৯২ জন ও রিজার্ভ থাকবে ২৫৬ জন। ভোট কেন্দ্র এবং মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে আনসার সদস্য মোতায়েন রয়েছে এক লাখ ৫৯ হাজার ৮৭৪ জন।
উপজেলায় ভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ১৩৯ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনি অপরাধ আমলে নিয়ে তারা সংক্ষিপ্ত বিচারকাজ সম্পন্ন করবেন। পরবর্তী ধাপগুলোর জন্যও একইভাবে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেবে ইসি। এই ধাপের নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিয়োগ করা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল আবেদন নিষ্পত্তি করবেন আপিল কর্তৃপক্ষ হিসেবে জেলা প্রশাসক।