চতুর্থ ধাপে ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলো ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। তবে ঘূর্ণিঝড় রিমালের কারণে স্থগিত ২০টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ করা হবে আগামী ৯ জুন।
বুধবার সকাল থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত ৬০ উপজেলায় ভোট অনুষ্ঠিত হয়।
গত তিন ধাপের মতো এবারও ভোটে তেমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। দুয়েক জায়গায় সামান্য কিছু সহিংসতা ও অনিয়মের অভিযোগ এলেও তা নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলেনি। তবে ভোটার উপস্থিতি ছিল আগের মতোই কম।
নির্বাচন কমিশনের সচিব জানিয়েছে, ২৬ জেলায় ৬০ উপজেলায় সকাল থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হয়েছে। সকাল আটটা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১৭ দশমিক ৩১ শতাংশ ভোট পড়েছে।
তিনি বলেন, এ পর্যন্ত কোথাও বড় ধরনের কোনো অনিয়ম, গোলযোগের তথ্য পায়নি ইসির কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল। ভোটের সময় অনিয়মের চেষ্টা করায় চার জনকে আটক করা হয়েছে এবং তিন জনকে জরিমানা করা হয়েছে।
এদিকে বাগেরহাটের শরণখােলায় দুই প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষ ১২ জন আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আহতদের শরণখালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
শরণখােলা থানার অফিসার ইন চার্জ এএইচএম কামরুজ্জামান বলেন, কেউ লিখিত অভিযােগ দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপরদিকে সিলেটের জকিগঞ্জে জাল ভোট দিতে হাতেনাতে ধরা পড়া এক যুবককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার বিকেলে দিকে সুলতানপুর নয়াগ্রাম হাজী তৈয়ব আলী বালিকা দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। দণ্ডিত যুবকের নাম দিলাল হোসেন।
এদিকে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার ও পুনরায় ভোট দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে মোশাররফ কাজী নামের একজনকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার দুপুর দুইটার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের গঙ্গিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
নওগাঁ সদর, মান্দা ও মহাদেবপুর উপজেলায় ভোটগ্রহণ শুরুর পর থেকেই কেন্দ্রগুলো ছিল প্রায় ভোটার শূন্য। শহরের সরিষাহাটের মোড়ে সরকারি বসির উদ্দিন মেমোরিয়াল কো-অপারেটিভ (বিএমসি) মহিলা কলেজ কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৯টায় গেলে দেখা যায়, ওই কেন্দ্রের নারী ভোটারদের ১নং ভোটকক্ষের ব্যালট বক্সটি তখনও শূন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দীর্ঘ সময়েও ভোটার না আসায় কক্ষে বসে অলস সময় পার করছেন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ পোলিং এজেন্টরা।
তিন পদে ৭২১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ২৫১ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৬৫ জন ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২০৫ জন প্রার্থী রয়েছেন। পাঁচ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন।
৬০ উপজেলায় মোট কেন্দ্রের সংখ্যা সাত হাজার ৮২৫টি। ভোটকক্ষ রয়েছে প্রায় ৬১ হাজার। এই ধাপের মোট ভোটার দুই কোটি ১৭ লাখ ৩৪ হাজার ২৫৫ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন এক কোটি ১১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৬০ জন। নারী ভোটার এক কোটি সাত লাখ ৪৫ হাজার ৫৫৮ জন। আর তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১২৭ জন।
প্রথম ধাপের ১৩৯ উপজেলায় ভোট হয়েছে গত ৮ মে। এসব উপজেলায় গড়ে প্রায় ৩৬ শতাংশ ভোট পড়ে। প্রথম ধাপে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ২৮ জন নির্বাচিত হন। দ্বিতীয় ধাপে ১৫৬ উপজেলা নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্বাচিত হন ২২ জন। ২১ মে এ ধাপের নির্বাচনে ভোট পড়ে ৩৮ শতাংশ। ২৯ মে তৃতীয় ধাপের ৮৭টি উপজেলার নির্বাচনে ভোট পড়ে ৩৬ দশমিক ২৪ শতাংশ।
প্রথম ধাপের রেকর্ডসংখ্যক কম ভোটের পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর পেছনে কৃষকদের ধান কাটা ও বৃষ্টিসহ পাঁচটি কারণকে দায়ী করে পরে পরবর্তীতে ধাপে ধাপে ভোটার উপস্থিতি আরও বাড়বে বলে আশাবাদী ছিল ইসি। কিন্তু পরের ধাপেও কাঙ্ক্ষিত ভোটার উপস্থিতি না হওয়ায় সরকারবিরোধী বিএনপির নির্বাচন বর্জনকেই মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে চেয়ারম্যান পদে ভোট করার সুযোগ থাকলেও স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বা মনোনয়ন দেয়নি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ফলে আওয়ামী লীগ নেতারা নির্বাচন করছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে।
অপরদিকে, বিএনপির অল্পকিছু নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়লেও দলটি উপজেলা পরিষদের ভোট বর্জন করেছে।
