যেভাবে দুর্ঘটনায় পড়ে প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমানটি

সময় আনুমানিক সকাল সাড়ে দশটা। চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর মোহনায় প্রশিক্ষণ উড্ডয়ন শেষে ফেরার পথে হঠাৎ আগুন লাগে বিমান বাহিনীর একটি ইয়াক-১৩০ যুদ্ধবিমানে।

দুর্ঘটনায় পড়া প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমানটির কারণে যাতে বড় ধরনের ক্ষতি না হয়, সেজন্য দুই পাইলট যানটিকে ‘অত্যন্ত সাহসিকতা ও দক্ষতার সাথে’ বিমানবন্দরের কাছের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে জনবিরল এলাকায় নিয়ে যান। এরপরেই তারা প্যারাসুট নিয়ে বিমান থেকে নামেন।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বিমান বাহিনী ঘাঁটি জহুরুল হক থেকে উড্ডয়নের পর প্রশিক্ষণ শেষে ফেরার সময় কর্ণফুলী নদীর মোহনার কাছে দুর্ঘটনায় পড়ে। যুদ্ধবিমানের পাইলট ছিলেন উইং কমান্ডার মো. সোহান হাসান খাঁন এবং স্কোয়াড্রন লিডার মুহাম্মদ আসিম জাওয়াদ।

স্থানীয়দের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, শুরুতে উড়োজাহাজের পেছনের অংশে আগুন লাগে। এর পরপরই দুই বৈমানিক প্যারাশুট নিয়ে ঝাঁপ দেন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে উড়োজাহাজটিতে। এরপর সেটি নদীর পানিতে পড়ে যায়।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, বিমান বাহিনীর ইয়াক-১৩০ প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমানটি ‘যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে’ দুর্ঘটনায় পড়ে।

কর্ণফুলী নদীর মোহনার কাছে এ দুর্ঘটনার পর কিছুসময় জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়। পরে সতর্কতা তুলে নেয়া হয় বলে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

potenga

আইএসপিআর জানিয়েছে, দুই পাইলটকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী দল এবং স্থানীয় জেলেদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় উদ্ধার করা হয়।

স্কোয়াড্রন লিডার আসিম জাওয়াদ এর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দ্রুত চিকিৎসার জন্য বিএনএস পতেঙ্গাতে নেয়া হয়। চিকিৎসক সর্বাত্মক প্রচেষ্টার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।

আসিম জাওয়াদের মৃত্যতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নানও শোক প্রকাশ করে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবাররের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

আইএসপিআর জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় পতিত বিমানটিকে উদ্ধারের কার্যক্রম চলছে।

দুর্ঘটনার পর সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান (পরিকল্পনা) এয়ার ভাইস মার্শাল মু. কামরুল ইসলাম ঢাকা থেকে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং উদ্ধার কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেন।

বিমান বাহিনী ঘাঁটি জহুরুল হকের এয়ার অধিনায়ক এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে এম শফিউল আজম দুর্ঘটনা পরবর্তী কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করছেন।

বিমান বাহিনী প্রধানে নির্দেশে দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনের জন্য এরইমধ্যে বিমান বাহিনীর একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ইয়াক ১৩০ কে বলা হয় অ্যাডভান্সড জেট প্রশিক্ষণ বিমান। এর মাধ্যমে অত্যাধুনিক জঙ্গি বিমানের প্রশিক্ষণ নেয়া যায়। তাছাড়া হালকা জঙ্গি বিমান এবং গোয়েন্দা বিমান হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বহরে এ ধরনের ডজনখানেক উড়োজাহাজ রয়েছে।