দেশের প্রধান স্থলবন্দর বেনাপোলসহ চার বন্দর দিয়ে ভারত ভ্রমণকারীদের ভোগান্তি কমিয়ে যাত্রা সহজ করতে চালু করা হয়েছে অনলাইনে পোর্ট ট্যাক্স দেয়ার ব্যবস্থা।
রোববার ঢাকা থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অনলাইনে পোর্ট ট্যাক্স দেয়ার ব্যবস্থা উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী। বেনাপোল ছাড়াও বাংলাবান্ধা, বুড়িমারী ও নাকুগাঁও স্থলবন্দরেও চালু হয়েছে অনলাইনে পোর্ট ট্যাক্স।
এতোদিন স্থলবন্দরে এই পোর্ট ট্যাক্স দেওয়ার জন্য লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো। ভোগান্তির সঙ্গে যোগ হতো হয়রানি। ছিলো দালালদের দৌরাত্ম্য।
এখন কোনো যাত্রী ঘরে বসেই আগেভাগে এই ট্যাক্স দিতে পারবেন। ভারতে যাতায়াতের সময় স্থলবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এই ট্যাক্স আদায় করে।
ভারত যাতায়াতে পাসপোর্টধারীদের বর্তমানে এক হাজার টাকা ভ্রমণ ট্যাক্স এবং ৫৫ টাকা পোর্ট ট্যাক্স পরিশোধ করতে হয়। ভ্রমণ ট্যাক্স সোনালী ব্যাংকে বা অনলাইনে পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। তবে এ সুযোগ পোর্ট ট্যাক্সের ক্ষেত্রে এতোদিন না থাকায় যাত্রীদের স্থলবন্দরে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হতো।
পোর্ট ট্যাক্স দিতে হলে এখন থেকে সরকারের ওয়েব লিংক (http://passenger.blpa.gov.bd)-এ যেতে হবে। এর মেয়াদ হবে ট্যাক্স দেয়ার তারিখ থেকে পরের সাতদিন।
ওয়েব লিংক ব্যবহার করে প্রযোজ্য চার্জ অনলাইনে পরিশোধ করে প্রমাণ হিসেবে মানি রিসিট সঙ্গে রাখতে হবে। এরপর ভারতে প্রবেশের সময় আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের গেটে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মীদেরকে তা দেখাতে হবে।
স্থলবন্দর ব্যবহার করে ভারত যাওয়া যাত্রীরা মনে করছেন, অনলাইনে পোর্ট ট্যাক্স চালু হওয়ায় অনেক উপকার হবে। সুবিধামতো সময়ে এটা পরিশোধ করা যাবে। লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হবে না। বিশেষ করে রোগী ও শিশুদের ভ্রমণের সময় দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়ানোর ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলেছে।
স্মার্ট ল্যান্ডপোর্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চার স্থলবন্দরের পোর্ট ট্যাক্স আদায় করার জন্য একপে ও এটুআই একটি কেন্দ্রীয় ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপ করেছে। এই অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করেই পোর্ট ট্যাক্স আদায় করা হবে।
চিকিৎসা, ভ্রমণ, কেনাকাটাসহ নানা কাজে প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে ১৬ থেকে ১৭ লাখ মানুষ ভারতে যান। আর এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ ভারতে যান বেনাপোল বন্দর দিয়ে।
এক হিসাবে, প্রতিদিন বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৬ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। এতে প্রতি বছর বেনাপোল স্থলবন্দরে ভ্রমণ খাতে ১০০ কোটি টাকার বেশি এবং পোর্ট ট্যাক্স থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা আয় হয়।