আইনের চোখে এখনও জীবিত ঝিনাইদহ-৪ এর সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার। কারণ, তাঁর মৃত্যুর আইনি কোনো প্রমাণ এখনও মেলেনি।
আর এই কারণেই আনারের সংসদ সদস্য পদ শূন্য ঘোষণা করা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। আইনবিদরা বলছেন, মৃত্যু প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তার পদ শূন্য ঘোষণা করা সম্ভব নয়। তবে সংসদকে না জানিয়ে একটানা ৯০ দিন অনুপস্থিত থাকলে আসন শূন্য হয়ে যায়।
এমপি আনারের নিখোঁজ ও খুন হাওয়ার খবর নিয়ে বেশ কদিন ধরে তোলপাড় চলছে বাংলাদেশ ও ভারতে। পুলিশ বলছে, কলকাতার ফ্ল্যাটে তাকে হত্যা করে মরদেহ টুকরো টুকরো করে ফেলে দেওয়া হয়েছে। খণ্ডিত কিছু অংশও উদ্ধার করা হয়েছে।
কিন্তু তার মরদেহ উদ্ধারের আইনি প্রমাণ এখনও মেলেনি। দেহাংশের টুকরোগুলো ডিএনএ পরীক্ষার আগে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয় যে, সেটি আনারেরই।
তাই আইনগত কোনো কর্তৃপক্ষ আনারকে এখনও মৃত ঘোষণা দেয়নি। এই অবস্থায় আইনবিদদের ভাষ্য হলো; আইনের চোখে আনার এখনও মৃত নয়।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আহসানুল করিম একাত্তরকে বলেন, রেকর্ড অনুযায়ী তিনি মারা গেছেন, এরকম প্রমাণ হয়নি; যেমনটি আইনের দৃষ্টিতে ঘোষণা করা হয়।
‘তিনি যে সত্যি সত্যি মৃত, সেইরকম শক্ত কোনো প্রমাণ এখনো আসেনি। যতক্ষণ তা না আসবে, ততক্ষণ আমরা জটিলতা, ধাঁধার মধ্যে রয়ে যাচ্ছি,’ যোগ করেন তিনি।
মৃত্যু, পদত্যাগ বা অন্য কোন কারণে সংসদের কোনো আসন শূন্য হলে সংসদ সচিবালয় থেকে একটি গেজেট প্রকাশ করা হয়। মৃত্যুর দিন থেকে আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। গেজেটের এই কপি পাঠানো হয় নির্বাচন কমিশনে। পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচনের আয়োজন করে কমিশন।
তাই কোনো আইনগত কর্তৃপক্ষ আনারকে মৃত ঘোষণা না করা পর্যন্ত ঝিনাইদহ-৪ আসন শূন্য ঘোষণা করা নিয়ে জটিলতা থেকেই যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে সংবিধান অনুযায়ী আনার ৯০ কার্যদিবস পর্যন্ত সংসদে অনুপস্থিত থাকলে আসনটি শূন্য বলে গণ্য করা হবে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রেজা ই রাকিব একাত্তরকে বলেন, এই ক্ষেত্রে আমাদের এখন যেটা নিরাপদ হবে, যদি আমরা মরদেহ না পায় বা তাহলে ৯০ দিন অপেক্ষা করা।
তিনি বলেন, আর যদি ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ হলে, তাহলে তারা হয়তো ঘোষণা দিতে পারে। তখন সংসদ নির্বাচন কমিশনকে জানাবে, কমিশন নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা করবে।
অতীতে যেসব সংসদ সদস্য মারা গেছেন বা হত্যার শিকার হয়েছেন সেসব ক্ষেত্রে প্রমাণও মিলেছে। তাদের দাফন বা সৎকার হয়েছে।
কিন্তু আনোয়ারুল আজিম আনারের ঘটনাটি বিরল ও ব্যতিক্রমী। এ নিয়ে সংবিধান বা আইনে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই। আনারের উদাহরণটি আইন সংশোধনের ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের খবরের পর সংসদের ওয়েবসাইটে ঝিনাইদহ-৪ আসনের তথ্য সরিয়ে নেয়া হলেও সেটি আবার সংযোজন করেছে সংসদ সচিবালয়।