নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করার দায়ে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া তিনজনের প্রার্থিতা বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
রোববার কমিশনে শুনানি শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সংস্থাটির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ।
এদিকে রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাচন ঘিরে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে দুঃখ প্রকাশ করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান।
প্রার্থিতা বাতিল হওয়া তিনজন হলেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সাইদুজ্জামান মামুন, ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী রওশন মৃধা ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী বেগম ফেরদৌসী পারভিন।
ইসির অতিরিক্ত সচিব বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করায় রাঙ্গাবালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিন প্রার্থীর শুনানি শেষে প্রার্থিতা বাতিল করেছে কমিশন।
গত শুক্রবার নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের হয়েছে অভিযোগ এনে ইসিতে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য তাদের ডেকে পাঠানো হয়েছিল।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে একইদিন ইসি সচিবালয় থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয় দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রীর কাছেও।
নির্বাচন কমিশনের অভিযোগে বলা হয়, রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোট বাইশদিয়া ইউনিয়নের কোড়ালিয়া ঘাট এবং চালতাবুনিয়া ইউনিয়নের চালতাবুনিয়া বাজারে ত্রাণ বিতরণের সময় প্রতিমন্ত্রী তিনজনের পক্ষে প্রকাশ্যে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে এবং এটি কার্যক্রম উপজেলা পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০১৬ এর লঙ্ঘন বলে ইসির চিঠিতে জানানো হয়।
ইসির তলবে রোববার বিকাল তিনটায় আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ব্যাখ্যা দিতে আসেন প্রতিমন্ত্রী মহিববুর। সঙ্গে আইনজীবী হিসেবে আনেন সংসদ সদস্য সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনকে।
এ সময় প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সুমন সাংবাদিকদের বলেন, প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, কোনো কারণে যদি আমার জানার বাইরে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ হয়ে থাকে তার জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।
এক প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, উনি (প্রতিমন্ত্রী) আসলে অতি শোকে পাথর হয়ে গেছেন। ওনার মত একজন ভদ্রলোকর বিরুদ্ধে এরকম অভিযোগ। আর কথা বইলেন না। উনি আসলে অতি শোকে পাথর।