শুরু হলো দ্বাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন। বুধবার স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকেল পাঁচটায় সংসদের বৈঠক শুরু হয়।
সরকারের চলতি মেয়াদের প্রথম বাজেট অধিবেশন এটি। বৃহস্পতিবার ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের বাজেট উপস্থাপন করা করে হবে জাতীয় সংসদে।
সংসদ অধিবেশন শুরুর আগে অনুষ্ঠিত কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে চলতি অধিবেশনের মেয়াদ, বাজেটের ওপর আলোচনাসহ সার্বিক কর্মসূচির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সবাইকে বাজেট অধিবেশনে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি বর্তমান দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বাজেট পেশ করবেন। বাজেটের ওপর সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা আলোচনা করবেন। সবার আলোচনায় এ অধিবেশন প্রাণবন্ত ও কার্যকর হবে।
বৈঠকের শুরুতে স্পিকার সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মনোনয়ন দেন। সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যরা হলেন– ক্যপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম, মো. শাহাব উদ্দিন, শাহরিয়ার আলম, সালমা ইসলাম ও ফরিদা ইয়াসমিন।
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে অগ্রবর্তিতার ভিত্তিতে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যরা সংসদের বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন।
পরে সংসদে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। তবে ঝিনাইদহ–৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার সম্প্রতি কলকাতায় গিয়ে ‘খুন’ হলেও তার হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না হওয়ায় তার বিষয়ে কোনও শোক প্রস্তাব গ্রহণ হয়নি। তার সংসদীয় আসনও শূন্য ঘোষণা হয়নি।
কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক
এর আগে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে কার্য উপদেষ্টা কমিটি বৈঠকে বসে। কমিটি সদস্য এবং সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে অংশ নেন।
এছাড়া, বৈঠকে কমিটির সদস্য বিরোধী দলের নেতা জিএম কাদের, আমির হোসেন আমু, আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ওবায়দুল কাদের, রাশেদ খান মেনন, আনিসুল হক, বিরোধী দলের উপনেতা আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, ডেপুটি স্পিকার মো. শামসুল হক টুকু, দীপু মনি, চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী এবং এ কে এম রেজাউল করিম তানসেন অংশ নেন। অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বৈঠকে বিশেষ আমন্ত্রণে যোগ দেন।
সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্র, শনিবার ও সরকারি ছুটির দিন সংসদের বৈঠক হবে না বলে কমিটি সিদ্ধান্ত নেয়। তবে ২২ জুন ও ২৯ জুন শনিবার সংসদের বৈঠক বসবে।
এছাড়া প্রতিদিন সকাল ১১টা হতে ১টা পর্যন্ত এবং সন্ধ্যা ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত অধিবেশন চলবে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়।
এছাড়া আগামী ১৩ জুন অধিবেশন মুলতবি হয়ে ১৯ জুন পুনরায় শুরু হবে। সংসদের কার্যাবলীর পরিমান বিবেচনায় স্পিকার বাজেট অধিবেশনের স্থায়িত্বকাল নির্ধারণ করবেন বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য ৮২টি ও অন্যান্য মন্ত্রীর জন্য এক হাজার ৮৯০টি প্রশ্নসহ মোট এক হাজার ৯৭২টি প্রশ্ন পাওয়া গেছে। বিধি-৭১ এ মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশ পাওয়া গেছে ৫৪টি এবং প্রস্তাব (সাধারণ) বিধি-১৪৭ এ নোটিশ পাওয়া যায় নি। বিধি-১৩১ এ সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের সংখ্যা ১২৯টি। বেসরকারি বিলের নোটিশ পাওয়া যায়নি। পাঁচটি সরকারি বিলের মধ্যে কমিটিতে পরীক্ষাধীন তিনটি, পাশের অপেক্ষায় একটি ও সংসদে উত্থাপনের অপেক্ষায় একটি।