বেনজীরের রিসোর্টের মাছ বিক্রি, দুদকের মামলা

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের মালিকানাধীন ও আদালতের ক্রোক করা সাভানা ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্কের পুকুর থেকে চুরি করে মাছ বিক্রির অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

গোপালগঞ্জের দুদক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. সোহরাব হোসেন সোহেল বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে গোপালগঞ্জ সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় রিসোর্টের হ্যাচারি কর্মকর্তা সফিকুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

এদিকে, ওই রিসোর্টের নিয়ন্ত্রণ জেলা প্রশাসন নিয়েছে। প্রশান জানিয়েছে, রিসোর্টের জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী পার্কের যাবতীয় কার্যক্রম চালু থাকবে।

ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত গত ২৩ মে এক আদেশে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামীয় জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অপরাধ সংশ্লিষ্ট সম্পদ ক্রোক ও ৩৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আদেশ দেন। যার মধ্যে সাভানা ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্কও আছে।

দুদকের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘ইতোমধ্যে এসব সম্পদের রিসিভার (তত্ত্বাবধায়ক) নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় ক্রোক করা সম্পত্তির মধ্যে রিসোর্টের ভেতরের পুকুরের মাছসহ বিভিন্ন সম্পদ চুরি করে ধরা হচ্ছে বলে গোপন সূত্রে খবর পাওয়া যায়। বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলে কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহের জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।’

গত ২৬ মে বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী জিশান মির্জা, বড় মেয়ে ফারহিন রিস্তা বিনতে বেনজীর ও ছোট মেয়ে তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের নামে বিভিন্ন সম্পত্তির দলিল, ঢাকায় ফ্ল্যাট ও কোম্পানির আংশিক শেয়ারসহ ১১৯টি স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেন আদালত।

ক্রোকের নির্দেশ পাওয়া সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে ১১৯টি দলিল। যার মধ্যে ঢাকায় ৪টি ফ্ল্যাট। এর মধ্যে ২০৪২ স্কয়ার ফিট ২টি এবং ২০৫৩ স্কয়ার ফিট ২টি। ৪টি নিজ নামীয় কোম্পানি, ৪টি বিও অ্যাকাউন্ট। ১৫টি আংশিক মালিকানাধীন কোম্পানির শেয়ার।

গত ২৩ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলন করে দুদকের সচিব খোরশেদা ইয়াসমীন জানান, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন নিয়ে গত ৩১ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরবর্তী সময়ে আরও কিছু গণমাধ্যমে তার (বেনজীর) বিষয়ে একই ধরনের অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই সব প্রতিবেদনে উঠে আসা অভিযোগগুলোর বিষয়ে দুদক কার্যক্রম শুরু করেছে।

এরমধ্যে দুদক বেনজীরকে ডাকলে তিনি ১৫দিনের সময় চেয়ে আবেদন করেছেন।

মামলার এজাহারে মামলার বাদী মো সোহরাব হোসেন সোহেল উল্লেখ করেন, দুদকের গোপালগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমানের নির্দেশে শুক্রবার বিকেল পাঁচটার দিকে টিম নিয়ে রিসোর্টে যান।

সরেজমিন তদন্তে রিসোর্টের ভেতরের ২০ একরের একটি পুকুরে জেলেদের মাছ ধরতে দেখেন। দুদক টিম যাওয়ার খবর পেয়ে হ্যাচারি কর্মকর্তা সফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য আসামিরা পালিয়ে যায়। মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত জেলেদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ওই রিসোর্টের মৎস্য হ্যাচারি কর্মকর্তা সফিকুল ইসলামের নির্দেশে তারা মাছ ধরছেন। বিষয়টি তৎক্ষণাৎ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, মাছ পচনশীল হওয়ায় সেখানে উপস্থিত গোপালগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাসহ অন্যান্যদের সহযোগিতায় জব্দ তালিকা প্রস্তুত করে জব্দ করা মাছ উপস্থিত মৎস্যজীবীদের মধ্যে নিলামে ৮৩ হাজার ৭৫৪ টাকায় বিক্রি করা হয়। এ টাকা সরকারি খাতে জমা দেয়ার জন্য গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা এস এম জিল্লুর রহমান রিগানের জিম্মায় দেয়া হয়েছে।

সরেজমিন পরিদর্শনে সংশ্লিষ্ট মৎসজীবী, ইউপি চেয়ারম্যান, রিসোর্টের কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মাছ চুরির প্রচেষ্টার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলায় সাভানা ইকো রিসোর্ট প্রাইভেট লিমিটেডের পুকুর থেকে ধরা ৫৫৫ কেজি তেলাপিয়া মাছ ও সাড়ে ৩৭ কেজি কাতলা মাছ বিক্রি করে নিলাম মূল্য অনুযায়ী ৮৩ হাজার ৭৫৪ টাকা আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়।

আদালতের সর্বশেষ আদেশ অনুযায়ী, জেলা প্রশাসন রিসোর্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। পার্কের যাবতীয় মালামালের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে।