সরকারি চাকরিতে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সমঝোতা করার প্রস্তাব দিলেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম।
এ আন্দোলন যাতে জনগণকে সরকারের বিরুদ্ধে না নিয়ে যায়, সেটা অনুধাবন করে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধকালীন এই সেক্টর কমান্ডার।
এদিকে, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরির নিয়োগে কোটা প্রথা বহাল রাখতে উচ্চ আদালতের রায়কে ধন্যবাদ জানান সরকার দলীয় আরেক সংসদ সদস্য শাজাহান খান।
বৃহস্পতিবার সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে এ আলোচনা করেন সরকার দলীয় এই দুই সংসদ সদস্য।
চাকরিতে কোটাবিরোধী আন্দোলনের বিষয়ে রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা যুদ্ধ করেছিলাম এ প্রজন্মকে একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ উপহার দেয়ার জন্য। তারা আন্দোলন করছে, সেই ভাষা আমাদের বুঝতে হবে। সেটা অনুধাবন করে আমাদের সমঝোতার মাধ্যমে মিটমাট করতে হবে- যাতে এ আন্দোলনটা জনগণকে আমাদের পক্ষ থেকে সরিয়ে নিয়ে না যায়। কারণ, এ প্রজন্মের কাছে একদিন আমরা ক্ষমতা হস্তান্তর করবো।
বিদেশি ঋণ না নিতে পারলে আগামী অর্থবছরে সরকারের উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম।
বাজেটে দুই লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ঘাটতি বাজেট পূরণে ঋণ নিতে না পারলে উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু আমরা সেটা হতে দেবো না। অতীতেও আমরা ঘাটতি বাজেট নিয়ে আলোচনা করেছি।
তিনি বলেন, উন্নয়ন সঠিকভাবে না হলে তা ধরে রাখতে পারবো না। এখানে অনেক অভিযোগ আছে। যারা ঠিকাদার আছেন তাদের কাজের মান অত্যন্ত খারাপ। গ্রামাঞ্চলে মানুষ দেখে যে, ঠিকাদাররা কাজ নিয়ে দুই-তিন বছর ফেলে রাখে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণের কাজ এতো নিম্নমানের যে, একবছর যেতে না যেতে পলেস্তারা খুলে পড়ে, সেখানে রড দেখা যায়। আমাদের শিক্ষার্থীরা এসব দেখে আমাদের নিয়ে কী ভাববে?
রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা সংসদ সদস্যরা জনগণের প্রতিনিধি হয়ে আসছি। কিন্তু আমাদের সন্তানেরা দেখছেন ঠিকাদারদের কাজের মান খারাপ। অথচ আমরা সেটা বন্ধ করতে পারছি না।
সরকারের যে সম্পদ আছে, তার ৩০-৪০ ভাগ অপচয় হয় বলেও উল্লেখ করেন রফিকুল ইসলাম।
এদিকে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেন আওয়ামী লীগের আরেক সংসদ সদস্য শাজাহান খান।
এই বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ছিলো, তা বহাল রাখার রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। এ জন্য হাইকোর্টকে ধন্যবাদ জানাই।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের ভাতা ১০ হাজার ও সদস্যদের ভাতা আট হাজার টাকা করার প্রস্তাব করেন আওয়ামী লীগের এমপি শাজাহান খান।
গার্মেন্টস, পরিবহন শ্রমিকসহ নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য রেশনিং প্রথা চালুর প্রস্তাব করেন তিনি।