রাজধানীর পূর্বাচলে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার সকালে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী র আ ম উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী।
প্রধান অতিথি বক্তব্যে সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বলেন, বৃক্ষ আমাদের পরম বন্ধু। বৃক্ষ শুধু প্রাকৃতিক শোভাই বাড়ায় না, মাটির ক্ষয় রোধ করে, বন্যা প্রতিরোধ করে, ঝড়-তুফানকে বাধা দিয়ে জীবন ও সম্পদ রক্ষা করে। আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণেও বৃক্ষের ভূমিকা অপরিসীম। বৃক্ষ ছাড়া পৃথিবী মরুভূমিতে পরিণত হতো। বৃক্ষ অক্সিজেন সরবরাহ করে আমাদের বাঁচিয়ে রাখে।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে দেশব্যাপী আজকের এই যে বৃক্ষ আন্দোলন, বৃক্ষ সচেতনতা, তার মূল প্রবক্তা ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। মূলত তিনিই দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণকে আনুষ্ঠানিকতা দান করেন। দীর্ঘ নয় মাসব্যাপী যুদ্ধে শুধু জীবন ও সম্পদই নষ্ট হয়নি, দেশের বৃক্ষ ও বনাঞ্চল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তা থেকে উত্তরণের জন্য, দেশকে বৃক্ষসম্পদে আরো সমৃদ্ধ করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সারা দেশে বৃক্ষরোপণ অভিযান কার্যক্রম চালু করেন।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে চারা রোপণের উৎকৃষ্ট সময় হিসেবে সাধারণত বিবেচনা করা হয় বর্ষাকালকে। অর্থাৎ জুন, জুলাই ও আগস্ট মাস গাছের চারা রোপণের উপযুক্ত সময়। পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে আজকের এই বৃক্ষরোপন কার্যক্রম একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ, এমন মহতী উদ্যোগ নেওয়ায় আমি রাজউক সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
সভাপতি বক্তব্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মোঃ নবীরুল ইসলাম বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রয়োজনের তুলনায় আমাদের দেশে বৃক্ষের তথা বনাঞ্চলের পরিমাণ নিতান্তই নগণ্য। আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণে অংশগ্রহণ করা। বনাঞ্চলের এই ঘাটতি পূরণে দেশের আনাচে কানাচে, ফসল উৎপাদনের অনুপযোগী উঁচু নিচু জমি, অফিস আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাড়ির আশে পাশের খালি জায়গা, বাড়ির ছাদে, রাস্তা, রেললাইন ও খাদের পাশে, চরাঞ্চলে ও পার্বত্য এলাকায় বৃক্ষরোপণ করে দেশের বনজ সম্পদের চাহিদা পূরণ করা যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণসহ প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষের ভূমিকা অনস্বীকার্য। জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ টেকসই পরিবেশ সংরক্ষণ, কার্বন আধার সৃষ্টি, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবিলা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে বৃক্ষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমি আশা করি, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে আজ যে বৃক্ষরোপন করা হলো তা সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণ সচেষ্ট থাকবেন।
বিশেষ অতিথি বক্তব্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-এর চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল ড. মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান সরকার (অবঃ) বলেন, বৃক্ষ আমাদের পরম বন্ধু, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের উপকারিতা বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিমূলক বৃক্ষরোপণ প্রচারাভিযান বরাবরই একটি কার্যকর উদ্যোগ। তিনি জানান, পূর্বাচল এলাকার জনগন এর সুফল ভোগ করবে। আগামী প্রজন্মের জন্য ভবিষ্যতের বাসযোগ্য পৃথিবী বিনির্মাণে এমন কার্যক্রম চলমান থাকবে এমনটাই আশা করেন তিনি।
উক্ত কর্মসুচিতে উপস্থিত ছিলেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, স্থাপত্য অধিদপ্তর, নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর, হাঊজিং এন্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট, সরকারী আবাসন পরিদপ্তর, আভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা পরিদপ্তরের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।