ছাগলকাণ্ডে আলোচিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমানসহ তার দুই স্ত্রী ও দুই সন্তানের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং পাসপোর্টের তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও পাসপোর্ট অফিসে পাঠানো আলাদা আলাদা চিঠিতে এসব তথ্য চাওয়া হয়েছে।
এবার ঈদুল আজহার সময় এনবিআরের সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমানের দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে মুশফিকুর রহমান ১৫ লাখ টাকার ছাগল কিনতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় আসেন। ছেলের বিলাসী জীবনযাপন নিয়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনার সূত্র ধরেই মতিউরের বিপুল সম্পদের বিষয়টি সামনে আসে।
এরপর থেকে মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে রিসোর্ট, শুটিং স্পট, পার্ক, বিলাসবহুল বাংলোবাড়ি, জমিসহ নামে-বেনামে বিপুল সম্পত্তি থাকার তথ্য বেরিয়ে আসতে থাকে। পুঁজিবাজারেও মোটা অঙ্কের বিনিয়োগ আছে মতিউরের।
এ ঘটনার পর মতিউর, তার স্ত্রী নরসিংদীর রায়পুরার উপজেলা চেয়ারম্যান লায়লা কানিজ ও তাদের ছেলে আহম্মেদ তৌফিকুর রহমান অর্ণবকে বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত।
মতিউরকে এনবিআর কর্মকর্তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ওএসডি করা হয়েছে। তাকে সরানো হয়েছে রাষ্ট্রীয় সোনালী ব্যাংকের পরিচালকের পদ থেকে।
এরপর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছেন আলোচিত কর্মকর্তা মতিউর। তার ও তার পরিবারের সদস্যদের বিপুল অবৈধ অর্থ সম্পদের খোঁজ পেয়েছে দুদক। সেসব সম্পদ জব্দে আালতের অনুমতিও মিলেছে।
তবে শুধু পরিবারের সদস্যদেরই নয়, মতিউরের বান্ধবী ও রাজস্ব কর্মকর্তা আরজিনাও গড়েছেন অঢেল সম্পদ। সম্প্রতি মতিউর-আরজিনার একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে। সেই ফোনালাপ থেকেই ছাগলকাণ্ডের মতিউরের সঙ্গে তার অধস্তন আরজিনা খাতুনের সম্পর্ক নিয়ে অনেক অজানা তথ্য সামনে এসে পড়েছে।