সম্প্রতি নাশকতায় ক্ষতিগ্রস্ত মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বিআরটিএ, বিটিভি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কোনো বীমা নেই। একই অবস্থা এসব প্রতিষ্ঠানের পুড়ে যাওয়া শতাধিক যানবাহনেরও। বীমা করা থাকলে সাম্প্রতিক সহিংসতায় ধ্বংস হওয়া এসব যানবাহন ও স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির টাকা পেতে পারতো সরকার। বারবার বলার পরও সরকারি সম্পত্তি কেন বীমার আওতায় আনা হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
দুর্বৃত্তদের নাশকতায় ধ্বংস হয়েছে মেট্রোরেলের মিরপুর-১০ ও কাজীপাড়া স্টেশন। অত্যাধুনিক এই দুটি স্টেশনের স্বয়ংক্রিয় কোনো ব্যবস্থাই আর অক্ষত নেই। ভেন্ডিং মেশিন, টিকেট পাঞ্চিং মেশিন ও টিকেট কাউন্টারসহ সবকিছুই লণ্ডভণ্ড। কর্তৃপক্ষ বলছে যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তাতে এই দুই স্টেশন চালু করতে লাগবে অন্তত ৫০০ কোটি টাকা।
ওপরের ছবিতে মেট্রোরেলের মতিঝিল থেকে কমলাপুরে এক্সটেনশনের কাজ চলছে। এই নির্মাণ কাজের ইনস্যুরেন্সের কভারেজ নেওয়া আছে। একইভাবে যেমনটি নেওয়া ছিল উত্তরা থেকে মতিঝিল অংশে। কিন্তু চালুর পর কোনো ধরনের বীমা ঝুঁকি গ্রহণ করেনি মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ। ফলে কোনো দুর্ঘটনা কিংবা সহিংসতায় ক্ষয়-ক্ষতি হলে কানাকড়ি সুবিধা পাবে না মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ।
দুনিয়া ব্যাপী এমন বড় বড় প্রকল্পের বীমা করা থাকে। যাতে যে কোনো দুর্ঘটনায় কিছুটা অন্তত ক্ষতিপূরণ মেলে।
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, মেট্রোরেলের যে ক্ষতি হয়েছে, তাতে বিদেশের সঙ্গে কোনো ইনস্যুরেন্স করা থাকলে সেই ক্ষতিপূরণ আমরা পেতাম। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় যে ক্ষতিগুলো হয়েছে তার অনেকটা কভারেজ এসে যেতো।
দুর্বৃত্তদের তাণ্ডবে সেতু ভবনে পুড়ছে ৫৯টি গাড়ি। উত্তর সিটি করপোরেশনের মিরপুরের আঞ্চলিক কার্যালয়ে পুড়েছে ২৯টি। মহাখালীর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবনেও বেশ কয়টি সরকারি গাড়ি ধ্বংস হয়েছে। সব মিলে সাম্প্রতিক সহিংসতায় পুড়ে যাওয়া শতাধিক গাড়ির মধ্যে মাত্র চারটির বীমা করা ছিল।
সাধারণ বীমা কর্পোরেশন মহাব্যবস্থাপক বিবেকানন্দ সাহা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িগুলোর এককেটির মূল্য যদি ৩০ লাখ টাকাও ধরা হয়, তাহলে অন্তত তিন কোটি টাকা। এই টাকা আমরা বীমা থেকে দাবি করতে পারতাম।
এমনকি বিটিভি, বিআরটিএসহ সরকারি এসব ভবনেরও কোনো বীমা করা নেই। সরকারি সব সম্পত্তি ও গাড়ির বীমা করে থাকে সরকারি সংস্থা সাধারণ বীমা করপোরেশন। তাই কেন সরকারি সম্পদের বীমা করা হলো না তা খতিয়ে দেয়ার তাগিদ দিয়েছেন বিআইবিএমের সাবেক মহাপরিচালক তৌফিক আহমেদ চৌধুরী।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এতো বড় বড় প্রকল্প ইনস্যুরেন্স ছাড়াই চালু করা যায়? কিন্তু এটা বাধ্যতামূলক। এটা কেন করা হলো না! এখন একটা সময় এসেছে, এগুলোর সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত তাদের এ বিষয়ে অবগত করা উচিত।
এদিকে মেট্রোরেলের বীমা কেন করা নেই, এমন প্রশ্নের বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজী হয়নি মেট্রো কর্তৃপক্ষ।