সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর রংপুর ও যশোর রিজিয়নের সার্বিক তত্ত্বাবধানে রংপুর রেঞ্জের সীমান্তবর্তী ১১টি থানা এবং খুলনা রেঞ্জের সীমান্তবর্তী ১০টি থানার স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বিজিব সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক চলমান পরিস্থিতির আলোকে সীমান্তবর্তী জনপদে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে জনমনে আস্থা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিজিবি সীমান্ত ও সীমান্তের আশেপাশের জনপদসহ সীমান্তবর্তী থানাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করেছে। থানাগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে মোবাইল ও স্ট্যাটিক টহল পরিচালনাসহ গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এছাড়া সীমান্তে ও সীমান্তবর্তী এলাকায় জননিরাপত্তা হানিকর কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিজিবির সহায়তার জন্য নিকটস্থ বিওপি ও ব্যাটালিয়নের সমন্বয়ে জরুরি মোবাইল সেবা চালু করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিজিবির নিরাপত্তায় এরইমধ্যে রংপুর রেঞ্জের সীমান্তবর্তী দিনাজপুরের হাকিমপুর থানা, লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম থানা, ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর থানা, পঞ্চগড়ের আটোয়ারী ও তেঁতুলিয়া থানা, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি, রৌমারী, চর-রাজিবপুর, কচাকাটা ও ঢুষমারা থানাসহ ১১টি থানার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
অপরদিকে, খুলনা রেঞ্জের সীমান্তবর্তী যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানা, সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ, দেবহাটা ও কলারোয়া থানা, চুয়াডাঙ্গার দর্শনা ও জীবননগর থানা, মেহেরপুর সদর, মুজিবনগর ও গাংনী থানা এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানাসহ মোট ১০টি থানার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সংঘর্ষ ও ব্যাপক প্রাণহানির মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরসহ সারা দেশে বহু থানায় হামলা ও অগ্নিসংযোগ হয়। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, অস্ত্র ও মালামাল লুট এবং বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে হত্যা করা হয়।
এরপরই সারা দেশের থানাগুলো পুলিশশূন্য হয়ে পড়ে। এরপর শীর্ষ পদে রদবদলের পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যেই সব ইউনিটের পুলিশ সদস্যদের নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আর সারা দেশে চলমান অরাজকতা, অগ্নিসংযোগ ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম বন্ধ করে স্থিতিশীলতা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শক্ত অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বিভিন্ন বাহিনীর প্রধানরা।