বন্যায় মৃত বেড়ে ১৫, পানিবন্দি ১০ লাখ পরিবার

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতি বৃষ্টিতে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। ২০ আগস্ট থেকে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির পর এখন পর্যন্ত ১৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের এক বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয়টি জানায়, নিহতের মধ্যে চট্টগ্রামে চার জন, কুমিল্লায় চার, ফেনীতে এক, নোয়াখালীতে এক, ব্রহ্মণবাড়ীয়া এক, লক্ষ্মীপুরে এক ও কক্সবাজারে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। 

ফেনী, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, লক্ষ্মীপুর ও কক্সবাজার মোট ১১টি জেলার ৭৭টি উপজেলার ৫৮৯টি ইউনিয়ন/পৌরসভা বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় ১০ লাখ পরিবার, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যায় প্রায় ৫০ লাখ।

দুর্গতদের তিন হাজার ১৭৬টি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় দুই লাখ মানুষ ও ২০ হাজার গবাদি পশু আশ্রয় নিয়েছে। ১১ জেলায় ক্ষতিগ্রস্তদের সেবা দিতে তৎপর রয়েছে ৬৩৯টি মেডিক্যাল টিম।

সরকার ইতিমধ্যে বন্যা দুর্গতদের জন্য তিন কোটি ৫০ লাখ নগদ টাকা, ২০ হাজার ১৫০ মেট্রিক টন চাল ও ১৫ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ করেছে। এছাড়া সব জেলায় পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ আছে বলেও জানায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়টি জানায়, বন্যা আক্রান্ত জেলাগুলোর জেলা প্রশাসক, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, মেডিক্যাল টিম ও অন্য স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে সমন্বয় করে একযোগে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দুর্গতদের সহযোগিতার জন্য সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম ০২৫৫১০১১১৫ খোলা হয়েছে।

এছাড়া বন্যা দুর্গতদের সহযোগিতার জন্য আগ্রহীরা প্রধান উপদেষ্টা ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে সহযোগিতা পাঠাতে পারবেন বলেও জানানো হয়।

হিসাবের নাম: প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল, সোনালী ব্যাংক করপোরেট শাখা, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়। হিসাব নম্বর : ০১০৭৩৩৩০০৪০৯৩।