বাতিল হচ্ছে কালো টাকা সাদা করার বিধান 

এতোদিন দেদারচে কালো টাকা সাদা করার যে বিধান ছিলো, তা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বৃহস্পতিবার দুপুরে যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। 

চলতি অর্থবছরের বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রয়েছে। বাজেট দেওয়ার সময় জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সাবেক অর্থমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী ‘নির্দিষ্টকরণ বিল-২০২৪’ পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিতে তা পাস হয়।

এর ফলে দেশের প্রচলিত আইন যা-ই থাকুক না কেন, কোনো করদাতা ফ্ল্যাট, জমির পাশাপাশি নগদ অর্থসহ স্থাবর সম্পত্তির জন্য ১৫ শতাংশ কর দিলে কোনো কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের প্রশ্ন তুলতে পারবে না।

তবে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নিয়েই কালো টাকা সাদা করার বিতর্কিত পদ্ধতিটি বাদ দেওয়ার উপায় খুঁজছিলো অন্তর্বর্তী সরকার।

গত মঙ্গলবার অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে বৈঠকে এনবিআর কর্মকর্তারা কালো টাকা সাদা করার সুবিধা বাতিলের সুপারিশ করেন।

সম্প্রতি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিও (এফবিসিসিআই) কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বাতিল করার আহ্বান জানিয়েছিল।

বাংলাদেশে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখার সংস্কৃতি কয়েক দশকের পুরোনো। কিন্তু এর ফলে তেমন কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি।

২০২০–২১ অর্থবছরের জন্যও তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ১০ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা বৈধকরণের সুযোগ দিয়েছিল। ওই মোট ১১ হাজার ৮৩৯ জন ২০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বৈধ করেন। 

ওই বছরেই দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পরিমাণ কালো টাকা সাদা হয়েছিলো। আর ওই অর্থ থেকে এনবিআর রাজস্ব পেয়েছিলো দুই হাজার ৬৪ কোটি টাকা।