আন্দোলন চলবে, নতুন কর্মসূচি চিকিৎসকদের 

দাবিদাওয়া পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা। এদিকে আন্দোলনে সেবা ব্যাহত হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী ও স্বজনরা। 

ঢাকা মেডিকেলে হামলা ও চিকিৎসকদের মারধরের প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকে বন্ধ রয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় এই হাসপাতালের বহির্বিভাগ। 

এরি মধ্যে বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন হাসপাতালের রেজিস্ট্রার ও নিউরো সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আব্দুল আহাদ। 

তিনি বলেছেন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত সব ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার, স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন ও স্বাস্থ্য পুলিশ গঠনের খসড়া না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। 

আন্দোলন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছেঃ

  • প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে ১০ টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি।  
  • যথারীতি জরুরি সেবা চালু থাকবে। 
  • সীমিত পরিসরে সকাল ১০টা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত বহির্বিভাগ চালু করা হবে। 
  • রুটিন সেবা বন্ধ, তবে ইমার্জেন্সি সেবা চালু থাকবে।
  • ইনডোর সেবা চলবে। 

আর দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলতে থাকবে বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসক  ডা. আব্দুল আহাদ।

DMC Patient 
এদিকে চিকিৎসকদের মারধরের প্রতিবাদে সেবা স্থবির হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী ও স্বজনরা। সকাল থেকে দেশের সবচেয়ে বড় এ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ চালু থাকলেও বহির্বিভাগে সেবা বন্ধ রেখেছেন চিকিৎসকরা। 

বহির্বিভাগ বন্ধ থাকায় স্বাভাবিকভাবেই রোগীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। তারা সেবার জন্য যাচ্ছেন সবাই জরুরি বিভাগে। সেখানে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। 

তবে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক বলেছেন, আজকের মধ্যে ঢাকা মেডিকেলের বন্ধ থাকা সব সেবা চালু করা হবে। 

তিনি বলেন, আন্দোলনকারীদের প্রধান দুটি দাবি পূরণ করা হয়েছে। এখন হাসপাতালে সেবা বন্ধ রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। হাসপাতালের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনাও অব্যাহত রাখা হয়েছে। 

এদিকে ঢামেকে হামলার ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা পুলিশ। সঞ্জয় পাল নামের ওই যুবককে সোমবার ভোরে গাইবান্ধা শহরের বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

হামলা ও মারধরের ঘটনায় রোববার সকাল থেকে জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগে কর্মবিরতি ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। দুপুরে তারা সারাদেশে কমপ্লিট শাটডাউনের ঘোষণা দেন। 

DMC

এরপর বিকেলে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম চিকিৎসকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। সেখানে তিনি সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের আওতায় আনার আশ্বাস দেন। সন্ধ্যার পর কাজে ফেরেন আন্দোলনকারী চিকিৎসকরা। ওইদিনের মতো সচল হয় জরুরিসহ অন্যান্য বিভাগ। 

ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার রাতে। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক শিক্ষার্থীর চিকিৎসায় অবহেলায় মৃত্যুর অভিযোগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামলা ও এক চিকিৎসককে মারধর করা হয়।

এরপর হাসপাতালে মধ্যেই বাইরে থেকে যাওয়া দুই গ্রুপের সংঘর্ষে একজন নিহত হন। আরেক রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় ডাক্তারদের ওপর হামলা চালানো হয়। 

এক দিনে তিনটি ঘটনার সূত্র ধরে শনিবার রাতেই বিক্ষোভ করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। অন্যান্য চিকিৎসক ও হাসপাতালের কর্মীরা একাত্মতা প্রকাশ করেন। 

এসব ঘটনার প্রতিকার, দোষীদের আইনের আওতায় আনা এবং নিরাপত্তা চেয়ে আল্টিমেটাম দেন চিকিৎসকরা।  রোববার থেকে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি চিকিৎসকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ঘোষণা দেন।