চলমান শ্রমিক আন্দোলনে বেশ কয়েকটি কারখানা বন্ধ থাকার মধ্যে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা হাসান আরিফ বলেছেন, শিল্পাঞ্চল এলাকায় শ্রমিক আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা করছেন বহিরাগতরা।
আর 'দখলের চেষ্টা হচ্ছে' উল্লেখ করে শ্রম উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভুঁইয়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেসব বহিরাগতরা বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।গত কয়েকদিনের মতো এদিনও শ্রমিক অসন্তোষের চলছে ঢাকা ও গাজীপুরের কয়েকটি শিল্প এলাকায়।
বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভের মুখে এদিন অন্তত ৬০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণার খবর পাওয়া গেছে। আর এ পরিস্থিতিতে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টারা যৌথ সভা করেন।
সভা শেষে হাসান আরিফ সাংবাদিকদের বলেন, আজকের বৈঠক শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে। আমাদের কথা হচ্ছে প্রকৃত শ্রমিক যারা, তারা অন্তত নিজের বাড়ি (কর্মস্থল) পোড়াবে না। শ্রমিকরাই বলেছেন, প্রকৃত শ্রমিকরা এ ধরনের কোনো বিশৃঙ্খলা করছেন না। কারণ এটা তাদের জীবিকা।
‘আপনারা দেখবেন, যেগুলো আমাদের ভাইব্রেন্ট ইন্ডাস্ট্রি, যেমন- প্রাণ কোম্পানিকে জ্বালিয়ে দেওয়া হলো। সেখানে তো কখনও শ্রমিক বিশৃঙ্খলা ছিল না। এটা যদি নষ্ট হয়, তাহলে ফরেন কারেন্সি আসা বন্ধ হয়ে যাবে। লোকাল ইন্ডাস্ট্রি নষ্ট হয়ে যাবে,' যোগ করেন তিনি।
তাহলে কার লাভ হবে- এ প্রশ্ন তুলে উপদেষ্টা বলেন, এসব বিষয় চিন্তা করেই আমাদের এগোতে হচ্ছে। শ্রমিকরা এখানে কোনো ডিস্টার্ব করছে না। যারা করছে, তাদের অধিকাংশই বহিরাগত। এসব বহিরাগতকে কীভাবে মোকাবেলা করা যায়, সেজন্য হয়তো আমাদের একটু কঠোর হতে হবে, শক্ত হতে হবে।
বুধবার সকাল থেকেই গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় নানা দাবিতে বিক্ষোভ করেন বেশ কয়েকটি কারখানার শ্রমিক। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন তারা। মহাসড়কের বেশ কয়েক কিলোমিটার জুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
বিভিন্ন দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভের মুখে শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার অন্তত ৬০ টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। এদিন সকাল থেকেই বাইপাইল থেকে জিরাবো পর্যন্ত শ্রমিকরা কারখানায় প্রবেশ করলেও কাজ না করে দাবি আদায়ে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে কর্তৃপক্ষ একে একে কারখানাগুলো ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।
শ্রমিকরা বাইরে বেরিয়ে এসে অন্যান্য কারখানার সামনে বিক্ষোভ করতে থাকে। তারা ইট পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে, সেসব কারখানাও ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। অন্তত ৬০টি ছোট-বড় পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শ্রমিক বিক্ষোভের মুখে বন্ধ হয়ে যায় নবীনগর-চন্দ্রা এবং বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়ক।
স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকার এ কয়েকদিনে নিজের নাগরিকদের বিরুদ্ধে ফোর্স ব্যবহার করেনি, করবেও না। কিন্তু এখন এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, আমার ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁচাতে গেলে, শ্রমিককে বাঁচাতে গেলে, দেশের অর্থনীতিকে বাঁচাতে গেলে, কিছু সংখ্যকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
'সে ব্যাপারেই আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে, কীভাবে পদক্ষেপ নেওয়া যায়। সে পদক্ষেপগুলো কী, সেটা আপনারা আগামীতে দেখতে পাবেন,’বলেন তিনি।
শ্রম উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভুঁইয়া বলেন, এ আন্দোলনে শ্রমিকদের দেখা যাচ্ছে না। তবে টাকা দিয়ে যাদের এসব আন্দোলনে নিয়ে আসা হয়; সেসব টোকাইদের দেখা যাচ্ছে। শ্রমিকদের কিছু দাবি আছে, যেগুলো দীর্ঘমেয়াদি। যেমন বেতন বাড়ানো, শ্রম আইন সংশোধন। এগুলো তো একদিনে করা যাবে না। তারপরও ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, তারা তাদের সঙ্গে কথা বলবেন।
তিনি বলেন, আমরা বলেছি, যারা বহিরাগত, তাদের আলাদা করেন। শ্রমিকদের আলাদা করেন। যারা ছোট ব্যবসা নিয়ে সন্ত্রাস করছে, আওয়ামী লীগের লোকেরা যেসব সিন্ডিকেট চালাতো, তারা সেগুলো ছেড়ে চলে গেছে। এখন যারা দখলের চেষ্টা করছে এবং বহিরাগত যারা বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।